খুলনায় দুটিতে ধানের শীষ, একটিতে জাপা প্রার্থীর ভোট বর্জন

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও খুলনা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা মওলানা আবুল কালাম ভোট বর্জন করেছেন।

 

এদিকে খুলনা-১ আসনের মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির খুলনা-১ আসনের প্রার্থী সুনীল শুভরায় ভোট বর্জন করেছেন। রবিবার সকাল ১০টার দিকে তারা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোট গ্রহণের ১ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা-৫ আসনের সকল ভোট কেন্দ্রের ভোট কক্ষের দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে। শত শত ভোটারকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বেশ কিছু নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এজেন্টের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী, রিটানিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যে কারণে এ প্রহসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’

 

একই অভিযোগে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের ২০ দলীয় ঐক্যজোট মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা মওলানা আবুল কালাম আজাদ ভোট বর্জন করেছেন। মওলানা আজাদ বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী তার পক্ষে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

 

এদিকে খুলনা-১ আসনের মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির খুলনা-১ আসনের প্রার্থী সুনীল শুভরায় ভোট বর্জন করেছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এ রকম কলঙ্কিত ভোট আমি কোনো দিন দেখিনি। সকাল থেকেই আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। যারা ভোট দিতে যাচ্ছেন তাদেরকে ব্যালট পেপার টেবিলের উপর রেখে নৌকায় সিল দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এখানে কোনো সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না। তাই আমি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি।’

আরো পড়ুন : কুমিল্লা-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতার ভোট বর্জন

এদিকে, ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের ৬টি বুথের মধ্যে ৪টিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে একই অবস্থা দেখা গেছে। এ কেন্দ্রের ৫নং বুথে ইভিএম মেশিন অকেজো দেখা গেছে। পোলিং কার্ড নষ্ট থাকায় সকাল থেকে ভোট গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

 

এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কিংকর সিংহ ১১টা ২ মিনিটে বলেন, ‘বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কার্ডটি হেলিকপ্টারে প্রেরণ করা হবে বলে ইসি থেকে জানানো হয়েছে।’

 

বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। পুলিশও একইভাবে এজেন্টদের গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছে। ভয়ে অনেক এজেন্ট কেন্দ্রে যেতে পারেনি।’

 

খুলনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ২০টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা চোখে পড়েনি। এছাড়া ইভিএমএ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন। জেলার বাকি ৫টি আসনেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। আইন-শৃংখলা বাহিনী সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।’ 

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি