ভেষজ

সর্পগন্ধা

 

খ্রিস্টের জন্মের কয়েক শ বছর আগে চরক সংহিতায় সর্পগন্ধা নামে গাছটির উল্লেখ ছিল। সর্পগন্ধা আমাদের দেশের ছোটো এক বুনো গাছ। বহু বছর ধরে হোমিওপ্যাথিক, অ্যালোপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। মোট পাঁচ রকমের সর্পগন্ধা পাওয়া যায়। ‘রাউলফিয়া সার্পেন্টিনা’ নামের গাছটি ওষুধের জন্য লাগে। রাউলফিয়া শব্দটির উত্পত্তি হয়েছে ষোলো শতকের জার্মান উদ্ভিদবিশারদ ও চিকিত্সাবিদ লিওনহার্ড রাউফলের নাম থেকে। সার্পেন্টিনা এসেছে লাতিন শব্দ থেকে, যার অর্থ সাপ। আসলে সাপকে নিয়ে এ গাছটির সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক উপকথা ছড়িয়ে আছে। যেমন সাপের সঙ্গে লড়ার আগে নেউল নাকি সর্পগন্ধার পাতা চিবিয়ে নেয়। সাপ মানে অবশ্যই বিষধর সাপ। এর জন্যই নাকি সাপের বিষ নেউলকে কাবু করতে পারে না। অনেকের বিশ্বাস ছিল, সর্পগন্ধা গাছের পাতা বেটে গোড়ালিতে লাগালে সাপ ও বোলতার বিষ ক্ষতি করতে পারে না। গাছটির শেকড় সাপের মতো অনেকটা আঁকাবাঁকা বলেই হয়তো এসব ধারণার জন্ম হয়েছে।

এ উপমহাদেশের বেশিরভাগ দেশেই বুনো অবস্থায় সর্পগন্ধা গাছ জন্মায়। গাছ বড়োজোর ৪ ফুট লম্বা, পাতাগুলো বেশ বড়ো। কদম গাছের পাতার মতো দেখতে অনেকটা। গোছা গোছা সাদা রঙের ফুল ফোটে গাছের মাথায়। ফুলের কুঁড়ি ও পাপড়ির নিচের দিক গোলাপি।

সুইজারল্যান্ডের ‘সিবা’ কোম্পানির গবেষকরা এ গাছটি থেকে ‘রেসার পিন’ নামের এক ধরনের অ্যালকালয়েড কোষ্ঠীর রাসায়নিক যৌগ আলাদা করতে পেরেছিলেন। তার অনেক আগে অবশ্য দু’জন ভারতীয় ঐ একই গোষ্ঠীর অ্যাজমলিন নামের রাসায়নিক সংশ্লেষণ করেছিলেন সর্পগন্ধা গাছ থেকে। রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসেবে সারা বিশ্বে এখন রেসার পিন ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্মাদদের মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য প্রথমে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন অনিদ্রা রোগের ওষুধ হিসেবেও রেসার পিন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। সর্পগন্ধার পাতার নির্যাস চোখের ছানি সারাতেও কাজে লাগে। তবে রেসার পিন সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় সর্পগন্ধা গাছের শিকড়ের ছালে। পাহাড়ি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি জন্মায়। সর্পগন্ধা গাছে ফলও হয়ে থাকে। ফলগুলো প্রথমে সবুজ, তারপর লাল এবং সবশেষে কালো হয়ে যায়। একসঙ্গে প্রচুর ফুল ও তিন রঙের ফলসহ দেখতেও সর্পগন্ধা গাছটি বেশ সুন্দর লাগে।