তথ্যপ্রযুক্তিতে নিবেদিত প্রাণ ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসা অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী যুক্ত ছিলেন বর্তমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও, তাই তার অনুপস্থিতি সর্বত্রই প্রকট হয়ে দেখা দেবে বলে মনে করছেন এই খাতের শীর্ষস্থানীয়রা।

সোমবার গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। ৭৭ বছর বয়সী এই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্রকৌশল বিদ্যার পাশাপাশি কম্পিউটার, পরিবেশসহ নানা খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকারে এসে গঠন করেন আইসিটি টাস্কফোর্স।  ১৯৯৭ সালে তৈরি করা হয় ৪৫ দফা সুপারিশসম্পন্ন জেআরসি কমিটির রিপোর্ট। সেখানে একটি সুপারিশ ছিল কম্পিউটারের উপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করার। সে সূত্রেই ১৯৯৮-৯৯ সালের বাজেটে কম্পিউটারের উপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়। জেআরসি কমিটির রিপোর্ট বাস্তবায়নের জন্য টাস্কফোর্সকেও সেই সময় অনেক সক্রিয় অবস্থায় পাওয়া যায়। সেটি ছিল বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সুবর্ণ সময়।

অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ ও প্রকৌশলীরা বলছেন, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন বটবৃক্ষের মতো, যে কোনো সমস্যায় শেষ ভরসাস্থল হয়ে ছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রায় সব বড় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের সভাপতির দায়িত্বে থাকা জামিলুর রেজা চৌধুরী ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের ইমারত বিধি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রথম মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। দেশের সবচেয়ে বড় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেলেও নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন এই অধ্যাপক।