বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
সবে বৈশাখ না পেরুতেই বাগমারার খাল-বিল ও নদ-নদীগুলোতে ঢুকে পড়েছে পানি। বৈশাখে নদীর হাঁটুপানির বদলে এখন অথই পানি। এই অথই পানি উন্মুক্ত ও ভাঙাচোরা স্লুইস গেট দিয়ে ঢুকে পড়ছে বিভিন্ন খাল-বিলে। পানি যেন গ্রাস করতে চাইছে কৃষকের আধাপাকা ধান। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা এভাবে পানি বাড়তে থাকলে তাদের ধান কাটতে সমস্যা হবে। স্থানীয় কৃষক ও উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাগমারার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌর এলাকায় কমবেশি বোরো আবাদ হয়েছে। উপজেলার বৃহত্তম বিল বিলসৌতি, খয়রা, বিলকালাই, বিলমাললি, নাককাঠি মরাবিলা, সোনবিলা, কাদারবিল, যশের বিলে বোরো আবাদ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এসব অধিকাংশ বিলের ধার দিয়ে বয়ে চলেছে ফর্কিনী ও বারনই নদী। সম্প্রতি এই দু্ই নদীর পানি ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এগুলো আগাম বন্যার পানি। তাদের মতে, চলতি মাসেই কোনো ভারী বর্ষণ হয়নি। আর নদীতে যে পানি আসছে তা অতি স্বচ্ছ ও ঠান্ডা। তারা বলেন, এই পানি পাহাড়ি নদীর পানি। এটি আগাম বন্যারই পূর্বাভাষ। খয়রা, মরাবিলা ও নাককাঠি বিল এলাকার প্রায় ২০/২৫ জন কৃষক জানান, তাদের বিলের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ফর্কিনী ও বারনই নদী। এসব নদীর পানি সুবিধামতো খালে-বিলে ঢুকানো ও বের করার জন্য বিল এলাকায় এরশাদ আমলে নির্মিত স্লুইস গেটগুলোর অধিকাংশই এখন ভেঙেচুরে অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে নদীর পানি এখন সামান্য পরিমাণ বাড়লে তা স্লুইস গেটের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সহজেই বিলে প্রবেশ করতে পারে। আর এভাবে পানি আসলে নিচু এলাকার ধান তলিয়ে যাবে। কিছু কিছু এলাকায় বিলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ঐ বিলের ধানচাষি খোরশেদ, দুলাল, মমতাজ। তারা বিষয়টি স্থানীয় কৃষি বিভাগকেও জানিয়েছেন। তারা বলেন, এসব নিচু জমিতে এখন রোপণ করা আছে বোরো ধান। ধানগুলো ক্রমেই পাকতে শুরু করেছে। আর ১০/১২ দিনের মধ্যেই এই ধান পুরোদমে কাটা শুরু করা যাবে। এখন ধানকাটা শ্রমিকের বড়োই সংকট। আর এ সময় বন্যা চলে আসলে তারা উভয় সংকটে পড়বেন। কৃষকদের এমন সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ জানান, হঠাত্ নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুনে তিনি কৃষি অফিসারকে নিয়ে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করছেন। অতিদ্রুত সময়ে এই পানি বের করে দেওয়ার জন্য নাটোরের নলডাঙ্গায় বারনই নদীতে স্থাপিত রাবার ড্যামটি খুলে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। একই অভিমত ব্যক্ত করে উপজেলা কৃষি অফিসার ড. রাজিবুর রহমান জানান, র্যাবার ড্যাম এরই মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি নামতে দুই-চার দিন সময় লাগবে।