শ্রীপুরে মা ও তিন সন্তান হত্যায় আরো পাঁচ জন গ্রেফতার
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আবদার এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে মা ও তার তিন সন্তানকে হত্যার ঘটনায় আরো পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১-এর সদস্যরা। বুধবার বিকালে র্যাব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। এর আগে সোমবার পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয় পারভেজ নামে একজন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১-এর সদস্যরা শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মা ও তিন সন্তান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঐ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. কাজিম উদ্দিন, মো. হানিফ, মো. বশির, মো. হেলাল ও মো. এলাহি মিয়া। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতে, ভিকটিমের বাড়ি থেকে লুটকৃত মালামাল ও আসামিদের পরিধেয় বস্ত্র (রক্তমাখা), নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি হলুদ রংয়ের গেঞ্জি, একটি জিন্সপ্যান্ট, তিনটি লুঙ্গি এবং একটি আংটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা সবাই মাদকসেবী। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সবাই জুয়াড়ি এবং ভিকটিমের বাড়িসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত জুয়া, মাদক সেবন ও আড্ডা দিত। এছাড়া ভিকটিমদের তারা নানাভাবে হয়রানি করত। গ্রেফতারকৃত কাজিমের ছেলে পারভেজ আনুমানিক দেড় মাস আগে সন্ধ্যার দিকে গোপনে ভিকটিমের বাড়ির খাটের নিচে লুকিয়ে থাকাবস্থায় গৃহকর্ত্রী তাকে ধরে ফেলেছিল।
এ হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে ঘাতকরা জানতে পারে যে, কাজল মালয়েশিয়া থেকে হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় ২০-২২ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। ঘটনার পাঁচ-সাত দিন আগে গ্রেফতার কাজিম ও হানিফ একত্রিত হয়ে কাজলের বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরে অন্য আসামি বশির, হেলাল, এলাহি এবং অন্যদের ডেকে নিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। তাদের দলে কাজিমের ছেলে পারভেজও ছিল। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টায় বাড়ির পিছনের এলাকায় জড়ো হয়। প্রথমে পারভেজ ভেনটিলেটর দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এছাড়া হানিফ মাদারগাছ এবং পাইপ বেয়ে ছাদে উঠে সিঁড়ির ঢাকনা খুলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। পরে অন্যদের প্রবেশের জন্য বাড়ির পিছনের ছোটো গেট খুলে দেয়। কাজিম, হেলাল, বশির, এলাহি এবং আরো কয়েক জন পিছনের গেট দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।
গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায়, কাজিম এবং হেলালসহ তিন জন প্রথমে ফাতেমার ঘরে প্রবেশ করে এবং কাজিমের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফাতেমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিতে বলে। ফাতেমা এত টাকা নেই বলে জানায়। পরে ফাতেমা তার রুমের স্টিলের শোকেসের ওপর রাখা টেলিভিশনের নিচে চাপা দেওয়া ৩০ হাজার টাকা বের করে দেয়। পরবর্তীতে ফাতেমার স্বর্ণালংকারগুলো ছিনিয়ে নেয় এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অন্যান্য রুমেও লুটতরাজ চালাতে থাকে। আসামি বশির, হানিফ ও এলাহিসহ আরো এক জন ভিকটিম নুরাকে তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে গলার চেইন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। তাকেও পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এছাড়া আসামি বশিরসহ আরো এক জন ফাতেমার ছোটো মেয়ে হাওয়ারিনকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। আসামি পারভেজও বর্ণিত হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণে অংশগ্রহণ করে।
গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ফাতেমা ও তার মেয়েরা গ্রেফতারকৃতদের কয়েক জনকে চিনে ফেলায় তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়।
এদিকে গত সোমবার গাজীপুর পিবিআই এক প্রেসব্রিফিংয়ে জানায়, মা ও তিন সন্তানকে পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারকৃত পারভেজ (১৭) একাই খুন করেছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আবদার এলাকার একটি ফ্ল্যাটবাড়ির দ্বিতীয় তলায় মাসহ চার জনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তারা হলো মা স্মৃতি ফাতেমা (৩৮), তার মেয়ে সাবরিনা সুলতানা ওরফে নূরা (১৬), হাওয়ারিন (১৩) এবং ছেলে ফাদিল (৮)। পরবর্তীতে গত ২৪ এপ্রিল গৃহবধূর শ্বশুর আবুল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শ্রীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।