নানা অজুহাতে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বাড়ছে

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান লকডাউনের মধ্যেই এক মাস বন্ধ রাখার পর পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেওয়ায় এবং দোকান-রেস্টুরেন্টে বিক্রির সময় বাড়ানোর কারণে রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বেড়ে গেছে। গণপরিবহন না চললেও গতকাল বুধবার নগরীর অধিকাংশ সড়কের চেহারাটা প্রায় আগের মতোই মনে হচ্ছিল। এতে সংক্রমণ আরো বেড়ে যাওয়া শঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে গত কয়েক দিন ধরে ব্যক্তিগত যানবাহন বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) জয়দেব চৌধুরী বলেন, লকডাউন শুরুর পর গতকালই নগরীর সড়কগুলোতে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিগত যানবাহন ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, হোটল খুলেছে, দোকানে বিক্রির সময়ও বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি ব্যাংকও খোলা। রোজা শুরু হয়ে গেছে। এ জন্য কিছু টাকা-পয়সা তোলা দরকার। এসব কারণেই যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে তারা হয়তো বের হচ্ছেন। তবে তিনি বলেন, চেকপোস্টগুলো একটু শিথিল করা হয়েছিল। তা আবার জোরদার করা হবে।

ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিকরা জানিয়েছেন, ঘুরতে নয় প্রয়োজনের তাগিদেই তারা গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, সেমি ওপেন লকডাউন চলছে। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের পিআই (ফার্মগেট-কাওরানবাজার এলাকা ) তোরাব আলী বলেন, গত এক মাসের মধ্যে আজ (গতকাল) সড়কে ছিল সর্বাধিকসংখ্যক ব্যক্তিগত যানবাহন। যেসব যানবাহন আটক করেছি, তাদের অধিকাংশই অজুহাত দেখিয়েছে, ব্যাংকে টাকা তোলা, দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এভাবে সড়কে যানবাহন চললে যাদের গাড়ি নেই তারাও ঘর থেকে বের হতে উদ্বুদ্ধ হবেন।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, লকডাউন শুরুর পর সড়কে যানবাহন ও লোক চলাচলের ব্যাপারে একটু কড়াকড়ি আরোপ করায় নানামুখী সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। এখন মানুষকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু যারা নিয়ম ভাঙায় অভ্যস্ত তাদেরকে বশে আনা যায়নি। এদের বাগে আনতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগ দরকার ছিল।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম বলেন, আইন মেনে যারা চলাচল করবেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত (জরিমানা) ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বলেন, সারাদেশে গণপরিবহন তো আগামী ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যারা বের হচ্ছেন তাদের ব্যাপারে আমাদের তো কিছু বলার নেই। তবে অনুরোধ করব অতি প্রয়োজন না হলে গাড়ি নিয়ে বের হবেন না।

বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান বলেন, গত দুই দিন সড়কে প্রাইভেটকারের জন্য রীতিমতো যানজট তৈরি হবার উপক্রম হয়। তবে তিনি বলেন, পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল লক ডাউনে বন্ধ রাখা হয়নি।

প্রসঙ্গত, দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর প্রথমে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল এবং পরে কয়েক দফায় সাধারণ ছুটি ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। লকডাউন শুরু হবার পর ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লার নিত্যপণ্যের দোকানগুলো সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ। কিন্তু রোজা শুরু হবার পর দোকানগুলোতে বিক্রির সময় ২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁগুলোকেও ইফতারসামগ্রী বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়।