১৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ চিকিৎসক ও গাড়িচালক গ্রেফতার

কুমিল্লায় ১৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ ডা. মো. রেজাউল হক (৪৫) নামের একজন চিকিৎসক ও তার গাড়ির চালক ধলু মিয়া ফরাজীকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। 

গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একটি দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় এ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

গ্রেফতার হওয়া ডা. রেজাউল হক ঢাকার উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের স্কুল শিক্ষক মো. সামছুল হকের ছেলে। 

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রামের লোহাগড়া এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারযোগে কুমিল্লা হয়ে ইয়াবার একটি বড়ো চালান ঢাকায় যাচ্ছে-গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে ডিবির একটি দল দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-৩৭১৯) সেখানে পৌঁছলে তাকে আটক করা হয়। পরে এতে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা জব্দসহ ডা. রেজাউল হক এবং গাড়ি চালক শরীয়তপুর জেলার ঘোষাইহাট উপজেলার বড়কাছনা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে ধলু মিয়া ফরাজীকে আটক করা হয়। 

গ্রেফতারকৃত ডা. মো. রেজাউল হক সাংবাদিকদের জানান, তিনি কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাকরি নেন। 

ইয়াবা ব্যবসার বিষয়ে তিনি জানান, ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে যাওয়ার পেছনে অনেক ইতিহাস রয়েছে। এর আগে একটি ঘটনায় তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়। তবে এবারের ইয়াবা চালানটি তিনি জিদ করে ঢাকায় নিতে চেয়েছিল। 

বর্তমানে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এফসিপিএস ৩য় পার্টে অধ্যয়ন করছেন। পরিবার নিয়ে ঢাকার উত্তরা এলাকায় বসবাস করছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন। 

আরো পড়ুন: সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ৩ করোনা রোগী

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিবির এলআইসি টিমের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক মোহা. ইকতিয়ার উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, মাঝে-মধ্যে তিনি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে নিজেই, কখনো লোক পাঠিয়ে এসব ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে একাধিক সিন্ডিকেটের নিকট বিক্রি করতেন। গাড়িতে ডাক্তারের স্টিকার থাকতো বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ এড়িয়ে তিনি খুব সহজেই ইয়াবার চালান নির্ধারিত স্থানে আনা-নেয়ার কাজ করতে পারতেন। এর আগেও তিনি পুলিশের হাতে মাদক নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় মাদক মামলা রয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় বুধবার রাতে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য প্রায় ৫১ লাখ টাকা। 

তিনি আরো জানান, এ ঘটনার সূত্র ধরে ওই চিকিৎসকের মাদক কেনা-বেচার সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়েও তদন্ত করে গ্রেফতার করা হবে।  

ইত্তেফাক/এএএম