ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ধানক্ষেতের ক্ষতি, বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ

তারাগঞ্জে এলবিএল ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে বোরো ধান পুড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে শতাধিক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণের দাবীতে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে চিকলী বাজার এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ওইদিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেছেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চিকলীবাজার এলাকার কৃষকরা ডাঙ্গীর দোলার জমিতে  বোরো ধান লাগিয়েছেন। তাদের লাগানো বোরো ক্ষেতে শীর্ষ বেড়াতে শুরু করছে।

কৃষকরা অভিযোগ করেন, তাদের কষ্টার্জিত সর্বস্ব মুলধন বিনিযোগে আবাদি জমির ধানগুলোর প্রায় শীর্ষ বেরুচ্ছে। এমন অবস্থায় ওই দোলায় অবস্থিত এলবিএল নামক ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ধানক্ষেত গুলো পুড়ে গেছে। এতে প্রায় শতাধিক কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে এলবিএল ইটভাটার মালিক মামুন আহাম্মেদের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবী করলে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কোন কথায় শুনছেন না বলে কৃষকেরা সাংবাদিকদের জানান। সকালে ওই এলাকার কৃষকেরা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। বিকালে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের চিকলীবাজার নামকস্থানে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

কৃষক পোড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক বলেন, অনেক কষ্ট করে বাবা মুই এক বিঘা জমিত বোরো লাগিয়েছিলাম, ইটভাটার গ্যাসে তা পড়ে গেছে। একই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শাহাজামাল, আয়নাল হক, জিয়ারুল হক বলেন, খ্যাতের হামার কাম শ্যাষ, ক্ষতিপূরণ না পাইলে হামার মরণ দশা হইবে।

এলবিএল ইটভাটার শনাক্তকারী মামুন আহাম্মেদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা কৃষি অফিসার আশোক কুমার রায় বলেন, ইউএনও স্যারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসারকে তদন্তের করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি