টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ফি বছর ভাঙনের কবলে পড়া মানুষগুলো শেষ সম্বলটুকু নিয়ে আতঙ্কে দিন পাড় করছেন। ইতিমধ্যে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি, কষ্টাপাড়া ও ভালকুটিয়া এলাকায় যমুনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে, নদীতে পানি বাড়তে থাকায় ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হতে দেখা গেছে। এছাড়া নদীর এক থেকে দেড়শ মিটারের মধ্যে থাকা বহু ঘর-বাড়ি, স্কুল, মসজিদ, মন্দির, পোল্ট্রি খামার হুমকির মুখে পড়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে নদী ড্রেজিং করে বাঁধ নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধানের বিকল্প নেই।
জানা গেছে, প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ে যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ক্রমেই পূর্ব দিকে ধাবিত হচ্ছে। আবার বালু খেকোরা অবৈধভাবে নদীতে জেগে উঠা চর অপরিকল্পিতভাবে বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতেও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর ভাঙনরোধে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি এলাকায় দুইশত মিটার এলাকায় নামমাত্র নি¤œমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা ভাঙনরোধে কোনো কাজেই আসেনি। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে চলে গেছে। তবে ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
খানুরবাড়ি গ্রামের জহুরুল ইসলাম বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘর-বাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে।
কষ্টাপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম মনি বলেন, গত বছর চোখের সামনে বাড়ির জায়গা জমিসহ একটি ঘর যমুনা নদীতে ভেঙে গেছে। বাকি টুকুতে পরিবার নিয়ে ঝুঁকিতে নদীপাড়ে বসবাস করছি।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল অংশ ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য প্রকল্প তৈরি করে সেটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।
ইত্তেফাক/এসি