করোনাকালে ডাক্তারশূন্য কুমিল্লার প্রাইভেট হাসপাতাল

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

‘করোনার প্রভাবে গা-ঢাকা দিয়েছেন বেসরকারি চিকিত্সাসেবা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ চিকিত্সক, টেকনিশিয়ান ও কর্মচারী। এতে কুমিল্লার পাঁচ শতাধিক ছোটো, মাঝারি ও নামকরা বড়ো হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। কুমিল্লা নগরসহ জেলার ১৭টি উপজেলা পর্যায়ের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান এখন চিকিত্সকশূন্য হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে রোগীরা। বেশির ভাগ নামকরা ডাক্তার তাদের চেম্বার বন্ধ ঘোষণা করে দরজায় নোটিশ লাগিয়ে দিয়েছেন।’ নগরীর বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সরেজমিন নগরীর বেশ কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এগুলোয় আগের মতো বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের রুমের সামনে দীর্ঘ লাইন নেই, রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড় নেই। রাত অব্দি দুই-তিন মিনিটের ব্যবধানে ডাক্তারের চেম্বারে রোগী প্রবেশ ও বের হওয়ার দৃশ্য এখন নেই। নগরীর নামকরা প্রাইভেট হাসপাতালগুলো এখন ডাক্তার ও রোগীশূন্য। পাঁচ ভাগের চার ভাগ চিকিত্সকের দরজা তালাবদ্ধ। কুমিল্লা মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতালের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অনির্দিষ্টকালের জন্য রোগী দেখবেন না বলে দরজায় বিজ্ঞপ্তি সাঁটিয়েছেন। অনেকে ঘোষণা না দিয়েই রোগী দেখছেন না। নগরীর মুন হাসপাতালেও অধিকাংশ চিকিত্সকের চেম্বার তালাবদ্ধ দেখা যায়। জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা একাধিক হাসপাতাল ঘুরেও ডাক্তারদের দেখা পাচ্ছেন না। চিকিত্সকদের না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। একই অবস্থা নগরীর একমাত্র ট্রমা সেন্টারেরও। সেখানেও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের দরজায় বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে। এছাড়া সিডিপ্যাথ, মডার্ন, পপুলার, মিডল্যান্ড, মুক্তি হাসপাতালেরও একই দৃশ্য। চিকিত্সকের সংকটে কয়েকটি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুক্তি হসপিটালের একজন কর্মচারী জানান, ‘ডা. পঞ্চানন দাশ একজন নামকরা নিউরোলজিস্ট। করোনা সংক্রমণের আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষের কষ্ট হতো। করোনার কারণে তিনি শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে অনেক জটিল রোগী ফিরে যাচ্ছেন।’ তবে মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। এদিকে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে ডাক্তারদের চেম্বার বন্ধের নোটিশ। চলছে নানা সমালোচনা। কুমিল্লা মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওমর ফারুক সুজন জানান, ‘করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে চিকিত্সকেরা স্বেচ্ছায় হাসপাতালে আসা কমিয়ে দিয়েছেন। প্রথম দিকে চিকিত্সকেরা পিপিইর সংকট থাকার অজুহাত দেখালেও এখন হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত পিপিই দেওয়া হয়েছে। আমরা তো ডাক্তারদের জোর করতে পারি না। চিকিত্সার বিষয়টি তাদের দায়িত্ববোধ ও ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।’ কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে ডাক্তারদের বিষয়ে কথা বলেছেন, নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পরও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিএমএ ও স্বাচিপ নেতাদের মাধ্যমে করোনার এই দুর্যোগে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একাধিকবার অনুরোধ করে ডাক্তারদের চেম্বারে ফেরার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। তাদের উচিত, দুঃসময়ে রোগী দেখা এবং এর মধ্যেই ডাক্তারি জীবন পূর্ণতা পায়।’