ডেঙ্গু লইয়াও সতর্ক থাকিতে হইবে

দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা দিনদিন বাড়িতেছে। করোনার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ডেঙ্গু আতঙ্কও ছড়াইতেছে। বিশেষ করিয়া গত ২৬ এপ্রিল সিলেট নগরীতে এডিস মশার লার্ভার অনুসন্ধান মিলিয়াছে। এই মহানগরের ২৫ ও ২৬ নম্বর দুইটি ওয়ার্ডকে ইতিমধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বলিয়া চিহ্নিত করা হইয়াছে। এই দুইটি ওয়ার্ডে প্রচুরসংখ্যক টায়ার ও স্যানিটারি সামগ্রীর দোকান রহিয়াছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কিছুদিন মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বাড়িয়া যাওয়া অস্বাভাবিক নহে। ইহাতে প্রমাণিত হয়, করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি আমাদের ডেঙ্গুর উপদ্রব হইতে পরিত্রাণের কার্যক্রমও অব্যাহত রাখিতে হইবে।

শুধু সিলেট নহে, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর-নগরে বর্ষাকালে ডেঙ্গুর উত্পাত বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ডেঙ্গুর মৌসুম ধরা হয় এপ্রিল হইতে অক্টোবর পর্যন্ত। তবে এইবার চলতি বত্সরের প্রথম তিন মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও এডিস মশার ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ করিয়া কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলিয়াছেন যে, এই বত্সর জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বাড়িয়া যাইতে পারে। উল্লেখ করা যাইতে পারে, গত বত্সর এই রোগ রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশে প্রায় মহামারি আকার ধারণ করিয়াছিল। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত হয় ১ লক্ষ ৩৭৪ জন। মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের, মতান্তরে বেসরকারি হিসাবে ৩০০ ব্যক্তির। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বত্সর জানুয়ারি হইতে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হইয়াছে ২৬৫ জন, যাহা একই সময়ে গত বত্সরের তুলনায় চার গুণ বেশি। তাই স্বভাবতই অনেকে উদ্বিগ্ন। যেহেতু এখন আমাদের পুরা স্বাস্থ্যব্যবস্থা করোনা ভাইরাসকেন্দ্রিক হইয়া পড়িয়াছে, তাই ডেঙ্গুর কথা ভুলিয়া গেলে চলিবে না। এই ব্যাপারেও সতর্ক হইতে হইবে এবং গ্রহণ করিতে হইবে সকল প্রকার প্রস্তুতি।

ডেঙ্গুর জীবাণু করোনা ভাইরাসের মতো মানুষের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না, ছড়ায় ইহার জীবাণুবাহী এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে। এইজন্য এডিস মশার বিস্তার রোধ করিবার উপরেই ডেঙ্গু মোকাবিলার সাফল্য নির্ভর করিয়া থাকে। যেহেতু এখন করোনা মহামারি বিদ্যমান, এইজন্য কর্মীরা যাহাতে নিরাপদ ও সুস্থ থাকে তাহার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। তাহাদের সামাজিক দূরত্ব মানিয়া ও প্রয়োজনে পিপিই পরিয়া জনস্বার্থে কাজ করিয়া যাইতে হইবে। এই ব্যাপারে অব্যবস্থাপনা-অনিয়ম, ঔষধের অকার্যকারিতা, ঔষধ ছিটানোর যন্ত্র নিম্নমানের হইবার কারণে নষ্ট ইত্যাদি অভিযোগ যাহাতে না উঠে, সেদিকেও এবার নজর রাখিতে হইবে। ইহার পাশাপাশি সচেতনতার অংশ হিসাবে ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির পাত্র, ঘরের বারান্দা, আঙিনা বা ছাদ, ফ্রিজের নিচে অবশ্যই পরিষ্কার রাখিতে হইবে, যাহাতে কোথাও পানি তিন দিনের বেশি জমিয়া থাকিতে না পারে এবং এডিস মশা বংশবিস্তারের জন্য ডিম পাড়িবার সুযোগ না পায়। এই সময় যাহাতে কিটের সংকট না দেখা দেয় এবং রোগীর চিকিত্সা পাওয়া লইয়া কোনো প্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়, সেই দিকেও খেয়াল রাখিতে হইবে। গ্রহণ করিতে হইবে সমন্বিত কৌশল।