র্যাপিড টেস্ট কিটের সঙ্গে অপরাজনীতিকেও যুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমন একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে যে, এই কিট বিশ্বে সর্বপ্রথম আমরাই আবিষ্কার করেছি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন দেশে এই কিট সীমিত আকারে রোগ নির্ণয় বা গবেষণার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে মানবদেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এখনো র্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ভারত, যুক্তরাষ্ট ও যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশেই এই কিটের ব্যবহার শুরু করেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানবদেহে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি না, তা এই টেস্টের মাধ্যমে জানার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই র্যাপিড টেস্ট পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে যারা এই টেস্ট করাবে, একমাত্র তাদের বেলায় এই পদ্ধতি প্রযোজ্য। এর আগে টেস্ট করালে নেগেটিভ ফল আসতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই কিট করোনা ভাইরাস বহনকারী রোগীর চিকিত্সায় ব্যবহার হয় না। কাজেই বর্তমান জাতীয় দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা উচিত নয়। আমরা আশা করি, সকল পক্ষেরই শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং এই দুর্যোগ মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ গৃহীত হবে।
বিপ্লব বিশ্বাস, গোয়ালচামট, ফরিদপুর