করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় চলমান লকডাউনে দেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ৯০ শতাংশ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মূল্য দিতে হচ্ছে শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষকে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। মানবতা দিয়ে শ্রমিক-মালিক পরস্পরের কল্যাণে একে অপরের পাশে থাকবে বলে প্রত্যাশা করে বিবৃতি দিয়েছে ‘কর্মজীবী নারী’র নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার মে দিবস ও কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক লিখিত বিবৃতিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসব কথা জানান। কর্মজীবী নারীর পক্ষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই বিবৃতি দিয়েছেন।
কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার এমপি, তার বিবৃতিতে বলেন, খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা কর্মহীন, কৃষক মাঠে অসহায় হয়ে আছে। শ্রমজীবী মানুষ যখন গুটিয়ে গেছে তখন পৃথিবীর সব উত্পাদন, এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস ও সমস্ত উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মূল্য দিতে হচ্ছে শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে নারী শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের পাশে দাঁড়ানো অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমজীবী-কর্মজীবীদের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে তাদের তালিকা করাসহ খাবার সংস্থান, কর্মের ও মজুরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মে দিবসের প্রত্যয় নিয়ে শ্রমজীবীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, করোনার মহামারি আমাদের সবাইকে গৃহবন্দি করেছে। এর ভয়াবহতার প্রভাব অর্থনীতির ওপর পড়েছে। যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে শ্রমজীবীদের। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ৯০ শতাংশ শ্রমিক, তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। মানবতা দিয়ে শ্রমিক-মালিক পরস্পরের কল্যাণে একে অপরের পাশে থাকবে।
সাধারণ সম্পাদক শারমিন কবীর বলেন, শারীরিকভাবে আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলেও মানসিকভাবে আমরা একে অপরের কাছাকাছি রয়েছি। করোনার এই ভয়াবহতা আমাদের শিখিয়েছে আমরা সবাই সমান।
বিবৃতিতে করোনাকালে শ্রমজীবী-খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের জন্য ‘কর্মজীবী নারী’ আট দফা দাবি তুলে ধরে বলেছে— করোনাকালে সকল শ্রমিকের কাজ, মজুরি, ক্ষতিপূরণসহ ঘরে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ ছুটির সময়ে শ্রমিক ছাঁটাই, কল-কারখানা বন্ধ করা চলবে না। করোনাকালে সকল শ্রমিকের জন্য পর্যাপ্ত রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অতি জরুরি কাজে নিয়োজিত সকল শ্রমিকের জন্য কার্যকর পিপিই এর ব্যবস্থা করতে হবে। করোনাকালে সকল শ্রমিকের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।