লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ইউনিয়ন পরিষদের এক মেম্বারের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় তার সংস্পর্শে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত(ওসি)সহ সাত কর্মকর্তার নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এছাড়া ওই ইউনিয়নের মেম্বার, সচিব এবং এসব কর্মকর্তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ীর চালকসহ আরও ৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টীম। গত দুইদিনে এ ৪৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম বিআইটিআইডিতে পাঠায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহিম রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২৯ এপ্রিল উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের এক মেম্বারের শরীরে করোনা ধরা পড়ে। কোনো উপসর্গ না থাকলেও নিজে থেকেই ওই ইউপি মেম্বার ২২ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। কিন্তু ২৯ এপ্রিল করোনা সঙ্কটে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নটির ২শ’ দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণকালে ইউএনও মো. আব্দুল মোমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুচিত্র রঞ্জন দাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামনাশিস মজুমদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম পাঠান ও ট্যাগ অফিসার সহকারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন ওই ইউপি মেম্বারের সংস্পর্শে আসেন। এতে করোনা সংক্রমণের সন্দেহে ওই সাত কর্মকর্তার নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, এ সাত কর্মকর্তা ছাড়াও ওই ইউপি মেম্বারের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে পরিষদের সচিব, মেম্বার, গ্রাম পুলিশ ও সরকারী কর্মকর্তাদের গাড়ী চালকসহ ৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আক্রান্ত ওই ইউপি মেম্বারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন, আমি জানতাম না ওই ইউপি মেম্বার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠিয়েছেন। তার করোনা পজেটিভ আসার পর থেকে আমি হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। যারাই ওই মেম্বারের সংস্পর্শে ছিলেন সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য পরার্মশ দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআরএম