বিজ্ঞান
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক
দুলালপুর এস.এম. অ্যান্ড কে. উচ্চ বিদ্যালয়
ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজকে তোমাদের পাঠ্যবইয়ের ’ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন’ তৃতীয় অধ্যায়ের সৃজনশীল প্রশ্নটি তোমাদের জন্য তুলে ধরা হলো।
নূসফাতের চাচা একজন কৃষক। বাড়ির পাশে তার নার্সারি রয়েছে। নূসফাত প্রায়ই তার চাচার সাথে টবে লাগানো গাছগুলোতে পানি দেয়। গ্রীষ্মকালে নূসফাত লক্ষ করলো কয়েকটি টবের গাছ নুইয়ে পড়েছে। সে তার চাচাকে কারণ জিজ্ঞেস করলো কেন গাছগুলো নেতিয়ে পড়েছে। তার চাচা বললো, মাটিতে পানি না থাকার কারণে পাতা দিয়ে পানি বেড়িয়ে যাওয়ার ফলে গাছগুলো নুইয়ে পড়েছে।
ক. প্রস্বেদন কাকে বলে?
খ. ইমবাইবিশন বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের টবের গাছের গোড়ায় প্রচুর লবণ দেওয়া হলে গাছটির কী অবস্থা হবে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. টবের গাছগুলো নুইয়ে পড়ার কারণ পরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণ করো।
ক. উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার সাহায্যে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে।
খ. অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। উদ্ভিদ দেহের স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদিও কলয়েডধর্মী। কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ যে প্রক্রিয়ায় তরল পদার্থ শোষণ করে স্ফীত হয় তাকে ইমবাইবিশন বলে।
গ. উদ্ভিদ মাটির কণার ফাঁক থেকে মূলরোমের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কৈশিক পানি শোষণ করে। মূলরোমের ভেতরে থাকে বেশি ঘনত্বের কোষ রস এবং বাহিরে মাটির কণার ফাঁকে থাকে কম ঘনত্বের পানি। তাই মূলরোমের প্রাচীর ভেদ করে কম ঘনত্বের পানি বেশি ঘনত্বের কোষ রসে প্রবেশ করে। কিন্তু গাছের গোড়ায় প্রচুর লবণ দেয়ায় লবণ মিশ্রিত পানির দ্রবণের ঘনত্ব গাছের কোষের পানির ঘনত্বের চেয়ে বেশি হওয়ায় কোষের ভেতরের পানি বেড়িয়ে আসবে। ফলে উদ্ভিদ দেহে পানির ঘাটতি দেখা দেবে। উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কাজগুলো পানির অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে টবের গাছটি মারা যাবে।
ঘ. উদ্দীপকের টবে লাগানো গাছগুলো নুইয়ে পড়ার কারণ প্রস্বেদন প্রক্রিয়া। নিচে প্রক্রিয়াটি পরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণ করা হলো-
পরীক্ষার উপকরণ: টবে লাগানো দুটি গাছ, টেবিল, পানি, পলিথিন,সূতা এবং ভেসলিন।
পদ্ধতি: টবে লাগানো গাছ দুটিকে টেবিলে রেখে গাছের গোড়ায় পরিমাণ মতো পানি দেই। একটি
চিত্র: পলিথিন মোড়ক দিয়ে প্রস্বেদন পরীক্ষা
গাছকে পাতাযুক্ত রেখে পলিথিনের মোড়ক দিয়ে ঢেকে দিয়ে গাছের গোড়ায় পলিথিনটি সূতা দিয়ে বেঁধে ভালোভাবে ভেসলিনের প্রলেপ দেই যেন বাইরের বাতাস ভেতরে এবং ভেতরের বাতাস বাইরে বের হতে পারে। অপর গাছটির পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলে একইভাবে পলিথিন দিয়ে মোড়ে দেই। এবার গাছ দুটিকে সূর্যের আলোতে রেখে দেই।
পর্যবেক্ষণ:কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে পাতাযুক্ত গাছের টবে পলিথিনের ভেতরে বিন্দু বিন্দু পানি জমেছে। কিন্তু‘ পাতাবিহীন গাছের টবে পলিথিনের ভেতরে পানি জমেনি।
ফলাফল: পর্যবেক্ষণ থেকে বলা যায়, উদ্ভিদের পাতার মাধ্যমে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়।