স্পোর্টস ডেস্ক
করোনা-পরবর্তী সময়ে ফুটবলে বড়ো পরিবর্তন আসতে পারে, ধারণা অনেকেরই। নিচুসারি লিগগুলোয় অর্থের ঝনঝনানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করে ফুটবলারদের বাড়তি দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছিলেন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। এবার ফিফা সহসভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি পরামর্শ দিলেন ফুটবল মৌসুমের সময়কালটাকেই বদলে নেওয়ার। বর্তমান সূচি অনুসারে প্রত্যেকটা লিগই প্রতি বছর আগস্ট মাসে শুরু হয়ে শেষ হয় পরবর্তী বছর মে মাসে। মন্টাগ্লিয়ানির পরামর্শ, মৌসুমটাকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বরের ফ্রেমে নিয়ে আসার।
উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা কনকাকাফের সভাপতি মন্টাগ্লিয়ানির যুক্তি, ‘কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে হবে। সে কথা মাথায় রাখলে এটা (মৌসুম বর্ষপঞ্জি অনুসারে আয়োজন করা) ভালো পরিকল্পনা হতে পারে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি দেখাচ্ছেন আমেরিকান ফুটবল মৌসুমকে, ‘আমেরিকায় বহু আগে থেকেই বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে ফুটবল মৌসুম চলে আসছে। এটা ইউরোপ ও আফ্রিকার জন্যে একটা সমাধান হতে পারে। জাতীয় ও মহাদেশীয় পর্যায়ে এটা কার্যকর করতে আলোচনা করা যেতে পারে।’ তবে মৌসুমকে এগিয়ে আনার ব্যাপারে পরামর্শ এটাই প্রথম নয়। ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থাকার সময়ে এমন একটা ধারণা দিয়েছিলেন কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে। মূলত ইউরোপে বছরের সেরা সময় গ্রীষ্মে ফুটবলের অলস সময় কাটানোর ব্যাপারটাতেই অনীহা ছিল জার্মান এই কিংবদন্তির। তার ভাষ্য ছিল, ‘গ্রীষ্মকালটা ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি সব জায়গাতেই বছরের সেরা সময়। আর এ সময়ই কি না আমরা খেলি না! আবার তীব্র শীতে যখন অবস্থা প্রতিকূল হয়ে পড়ে তখন পুরোটা সময় জুড়ে খেলি আমরা। এটা অযৌক্তিক।’ এদিকে মন্টাগ্লিয়ানির পরামর্শে সায় মিলেছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরও। করোনা-পরবর্তী সময়ে ফুটবলেও বড়ো পরিবর্তন আসতে পারে, ধারণা ফিফা প্রধানের।