ধরিত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ হই

মাইশা শওকত

সৌরজগতের আটটি গ্রহের ভিড়ে পঞ্চম গ্রহটি হচ্ছে আমাদের নীল গ্রহ বা পৃথিবী। এখন পর্যন্ত যে গ্রহে কোটি কোটি প্রাণের সঞ্চার হয়েছে সেটিই আমাদের ধরিত্রী। পরম স্নেহে মা যেভাবে সন্তানকে বুকে আগলে রাখেন, পৃথিবীও সেভাবে  মায়ের মতো করে কোটি কোটি প্রাণী, জল, মাটি, উদ্ভিদ সবাইকে আগলে রেখেছে, একটি ক্ষুদ্র অণুজীবকেও সে তার মমতা থেকে বঞ্চিত করেনি। কিন্তু তার বিনিময়ে  কি দিচ্ছি পৃথিবীকে? মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাত্ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু আমরা দিনে দিনে আমাদের এ ধরিত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ হারিয়ে ফেলেছি। আমরা আমাদের যান্ত্রিক জীবনে এতটাই উন্নতি লাভ করেছি যে আমরা ভুলেই গিয়েছি এ পৃথিবীর সব উপাদান থেকে শুরু করে সামান্য ক্ষুদ্র অণুজীবের ওপরও আমরা কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল এবং এর জন্য এক সময় আমরাই বিপদে পড়বো। আমরা সবুজ বনায়ন ধ্বংস করছি। আমরা বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাস পরিবেশে ছাড়ি এবং উদ্ভিদ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি, কিন্তু নগরায়ণ এবং উন্নত জীবন-যাপনের জন্য আমরা অবাধে ধ্বংস করছি সবুজ বনভূমি। অথচ আমাদের বনায়ন কমলেও আমাদের নিত্যনতুন আবিষ্কার কিংবা আধুনিক জীবন-যাপনের ফলে বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ  বেড়েছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে হলে সেখানে ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক। কিন্তু পৃথিবী এতটাই বিষাক্ত হয়ে  গেছে যে কয়েকশ বছর পর বনাঞ্চল খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়বে। এরই মধ্যে বন্যপ্রাণিদের ওপর এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে প্রাণী ও প্রাণিবৈচিত্র্য। বনায়ন কমার ফলে যেভাবে প্রাণিদের ওপর প্রভাব পড়ছে সেভাবেই প্রভাব পড়ছে তাপমাত্রায়। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বরফ গলতে শুরু করেছে। nationalgeographic.com ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ‘হিমবাহ গলনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্র উচ্চতা ১ থেকে ২.৩ ফিট পর্যন্ত বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ এছাড়াও আরো নানাভাবে আমরা পৃথিবীর ক্ষতি করে চলছি।

বুঝাই যাচ্ছে যে আমাদের দোষেই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর অবস্থা কী পরিমাণ শোচনীয় হবে। অথচ সে বিষয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। আমাদের চিন্তা শুধু কীভাবে অত্যাধুনিক জীবন-যাপন করা যায়। কিন্তু আমরা ভুলেই যাচ্ছি এ বিলাসিতা দিয়ে আমরা কী করবো! পৃথিবী ভালো না থাকলে ভালো থাকবো না আমরা। এই আধুনিক জীবন-যাপন বেশিদিন স্থায়ী হবে না যদি আমরা এখনই সচেতন না হই। এ পৃথিবী আমাদের, এ পৃথিবীর আলো-বাতাস সবকিছুই আমাদের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে, তাই পৃথিবীর প্রতি একটু কৃতজ্ঞ হই এবং নিজেদেরকেও ধ্বংসের মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনি।

n লেখক : শিক্ষার্থী, জাতীয়  কবি কাজী নজরুল  ইসলাম  বিশ্ববিদ্যালয়