৯ মাসে সংশোধিত এডিপির ৪৫ শতাংশ বাস্তবায়ন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) ৪৫ দশমকি শূন্য ৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। যা আগের (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ছিল ৪৭ দশমিক ২২ শতাংশ। করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও ধীর গতি লক্ষ করা যাচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। চলতি অর্থবছর মোট ২ লাখ ১০ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা আরএডিপির মধ্যে গত ৯ মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯০ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। শুধু মার্চ মাসে খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, করোনার কারণে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শ্লথ হয়ে যায়। ফলে এবার প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি কম। তবে এপ্রিল মাস পুরোটাই বন্ধ থাকায় বাস্তবায়ন হার এবার অনেক কম হবে। জরুরি খাত ছাড়া অন্য উন্নয়ন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য তেমন খরচ নেই। শুধু প্রকল্পে বেতন-ভাতা বাবদ খরচ দেখানো হচ্ছে। জরুরিভাবে স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া ছাড়াও নতুন করে সাজাতে হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের খরচের হিসাব। তবে করোনা পরিস্থিতিতে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের নতুন নির্দেশনা জারি করেছে অর্থমন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর আওতাধীন দফতর/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে। ‘মধ্যম অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে যেসব খাতে অর্থ ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী, মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো স্বীয় বিবেচনায় সেসব খাতে অর্থ ব্যয় করবে এবং মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো ‘নিম্ন অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় বা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বসম্মতি নিতে হবে। অবশ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পগুলো উল্লিখিত নির্দেশের বাইরে বা আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এবার সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৫৯৭টি। এর মধ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পই রয়েছে ৩৩০টি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক প্রকল্পের কাজ এখন বন্ধ। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া বাজেট ঘাটতিও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের টাকা কেটে অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। ফলে এবার এডিপি বাস্তবায়নের হারও অনেক কম হবে।