মশার উপদ্রব, ডেঙ্গু আতঙ্কে সাভারবাসী

তুহিন খান, সাভার থেকে

একদিকে করোনা মহামারি অন্যদিকে এডিস মশার উপদ্রবে ডেঙ্গু জ্বরের আতঙ্কে শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ। শ্রমিক অধ্যুষিত শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব না মানায় এবং নতুন করে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় এ অঞ্চল রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে সাভার উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। মার্চ মাসের শেষের দিক থেকেই স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার উপজেলার সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের না হতে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু প্রশাসনের এ নির্দেশ আমলে নিচ্ছে না এলাকার মানুষ।

করোনা দুর্যোগের মধ্যেই সাভারে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ভয়াবহ আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে মশার বিস্তার। দিন রাতে সব সময় মশার কামড়ে নাজেহাল সাভারবাসী। দিনের বেলাও অফিস কিংবা বাসাবাড়িতে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। আর সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে আরো কয়েক গুণ। কিন্তু মশা নিধনের জন্য প্রতিবছর বাজেট থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কিংবা ইউনিয়নগুলোতে মশা নিধনে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সাভার পৌর এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই মশার উপদ্রব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। কয়েল, স্প্রে বা মশারি টাঙিয়েও মশার উত্পাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সারাদিন মশার উপদ্রব থাকলেও সন্ধ্যার পর পরই এ উত্পাত আরো ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে সন্ধ্যায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে বা ওষুধ স্প্রে করে শিক্ষার্থীদের পড়তে বসতে হচ্ছে। এমনকি মশার উত্পাতে নাজেহাল হয়ে মশারি টাঙিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করতে হচ্ছে। অনেকেই মশার কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

সাভার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মশার কামড়ে আক্রান্ত অ্যানোফিলিশ, ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। সাভার পৌরসভাধীন তালবাগের বাসিন্দা উন্নয়নকর্মী আতিকুর রহমান জানান, মশা নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। মশা মারার বাজেট থাকলেও মশা নিধনে পৌর এলাকার কোথাও স্প্রে করতে দেখা যায়নি।

চিকিত্সক মোহাম্মদ রফিক জানান, গ্রীষ্মকালীন সময়ে মশা বংশবিস্তার ঘটায়। এ সময় মশার কামড়জনিত রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। করোনা সংক্রমণের এ সংকটময় সময়ে মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। তাই এ সময়ে সকলকে সচেতন থাকা প্রয়োজন।