চট্টগ্রামে চাহিদার অর্ধেক সেমাইও উত্পাদন হয়নি

করোনার প্রভাব

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

ঈদে অতিথি আপ্যায়নের উল্লেখযোগ্য উপকরণ সেমাই। তাই প্রতি বছর রমজান মাসে নামিদামি কোম্পানি ছাড়াও অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী সেমাই তৈরি করেন। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এবার চট্টগ্রামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুপাতে সেমাই উত্পাদন করতে পারেনি। চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ উত্পাদন কম হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। করোনার কারণে শ্রমিক সংকট ও কারখানা বন্ধ থাকায় উত্পাদন কম হয়েছে। তাই এবার সেমাইয়ের দাম কিছুটা বাড়তি।

চট্টগ্রামের চাক্তাই ও রাজাখালী এলাকায় সেমাই তৈরির ৪০/৪৫টি কারখানা ছিল। কারখানাগুলো রমজান মাসের আগে থেকে সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত থাকত। এসব কারখানায় সাধারণত বাংলা বা খোলা সেমাই ও লাচ্ছা সেমাই তৈরি করা হয়। চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলায় চট্টগ্রামের বাংলা সেমাই সরবরাহ করা হয়। ঈদ ও রমজান ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ে বাংলা সেমাইয়ের প্রচুর চাহিদা। কিন্তু এবারে চাক্তাই ও রাজাখালী এলাকায় সেমাই তৈরির অধিকাংশ  কারখানা বন্ধ। অলিগলির ভেতরে সীমিতসংখ্যক কারখানায় সেমাই তৈরি হচ্ছে। সেমাই ব্যবসায়ী আবু আহমেদ জানান, এবার গত বছরের অর্ধেক সেমাই তৈরি করতে পেরেছি। করোনার কারণে অনেক শ্রমিক চলে গেছেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে প্রায় সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাই বাজারের চাহিদা অনুপাতে সেমাই তৈরি করতে পারেনি।’ ময়দার মিলমালিক সৈয়দ নূর প্রতি বছর খোলা সেমাই তৈরি করে থাকেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর ৫/৬ হাজার কেজি খোলা সেমাই তৈরি করতাম। এবার অর্ধেকও তৈরি করতে পারেনি।’

মিষ্টান্ন তৈরির প্রতিষ্ঠান ফুলকলির মহাব্যবস্থাপক এম এ সবুর ইত্তেফাককে বলেন, ‘এবার তাদের চট্টগ্রামের কারখানাগুলো সেমাই তৈরি করতে পারেনি। শ্রমিক ও গ্যাস সংকটে উত্পাদন করা যায়নি। সিলেটের কারখানায় সেমাই তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু পরিবহন সংকটে সিলেট থেকে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য স্থানে সেমাই পৌঁছানো যাচ্ছে না। প্রতি বছর রমজান মাসকে ঘিরে ২ থেকে আড়াই লাখ কেজি সেমাই তৈরি করা হতো। এবার তার অর্ধেকও তৈরি করা যায়নি।’ আরেক প্রতিষ্ঠান বনফুলের মহাব্যবস্থাপক আমান-এ আলম বলেন, বাজারের চাহিদা অনুপাতে সেমাই তৈরি করা যায়নি। লকডাউনের কারণে শ্রমিকরা কারখানায় যাতায়াত করতে পারছেন না। গত বছরের অর্ধেক সেমাইও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। অথচ বাজারে বনফুল ব্র্যান্ডের সেমাইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’ এধরনের আরো ছয়-সাতটি কোম্পানি রয়েছে, যারা রমজানে সেমাই তৈরি করেন। সেসব প্রতিষ্ঠানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।