ধেয়ে আসছে সাইক্লোন আম্ফান, ফুঁসতে শুরু করেছে সাগর

রুদ্র বৈশাখের শেষ পক্ষে এসে প্রবল গতিতে ধেয়ে আসছে মৌসুমের প্রথম ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। ফুঁসতে শুরু করেছে সাগর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আগামী ৫ মের পর তার গতিপথ চূড়ান্ত করতে পারে। শুরুতেই এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এটি আছড়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সেখানকার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ঘূর্ণিঝড় আম্ফানবিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছের স্থানে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। আজ সোমবারের মধ্যে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে এটি। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বর্ষণ শুরু হয়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে কখনো কখনো থেমে থেমে এবং কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। চট্টগ্রামে ৪ ঘণ্টায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধস হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহাম্মেদ জানান, বঙ্গোপসাগরে ‘আম্ফান’ নামক একটি ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও গতিপথ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। ৫ মের পর একটা ধারণা পাওয়া যাবে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, এপ্রিল বা মে মাসের প্রথমার্ধে ঘূর্ণিঝড়গুলোর বেশির ভাগই বাংলাদেশ কিংবা মিয়ানমার উপকূলেই আঘাত হানে। এর মধ্যে কেবল গত বছর সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ব্যতিক্রম ছিল। যা এপ্রিলের শেষদিকে ভারতের উড়িষ্যা উপকূলকে লন্ডভন্ড করে দেয়। আর দেশের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এ্যান’ ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ৬ মিটার অর্থাত্ ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয় এবং এতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। উল্লেখ্য, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান নামটি দিয়েছে থাইল্যান্ড। আম্ফান ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় তালিকার শেষ নাম। ‘নর্দান ইন্ডিয়ান ওশান সাইক্লোন’-এর আওতাভুক্ত আটটি দেশের প্রস্তাবিত নাম থেকেই তা পর্যায়ক্রমে রাখা হয়। আওতাভুক্ত দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। ওই পর্যায়ক্রমের আট নম্বর তালিকায় শেষ নামটি হলো ‘আম্ফান’।

এদিকে গতকাল রবিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রকাশিত মে মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিপূর্ণ থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, তীব্র কালবৈশাখী ও তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা) আসতে পারে। এ মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি) এবং অন্যত্র এক থেকে দুটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অথবা মাঝারি (৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।