দেশে এক দিনে রেকর্ড ৬৬৫ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৪৫৫ জন। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো দুই জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৭ জন হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা রবিবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ এই তথ্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ; তার ১০ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু। এক দিনে এত বেশি নতুন রোগী আর কখনো বাংলাদেশে শনাক্ত হয়নি। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে একজন শিশু, যার বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। অন্যজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। তাদের একজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, অন্যজনের রংপুরে।
নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যায় উল্লম্ফনের খবর দিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘কোভিড-১৯ রোগীদের সুস্থতা বিষয়ে ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি আছে, তারা নতুন একটি গাইডলাইন করেছে- আমরা রোগীদের কীভাবে সুস্থ বলতে পারব, তারা কীভাবে হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারবে।’ সে হিসেবে দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে বুলেটিনে জানান অধ্যাপক ডা. নাসিমা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর আগে শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালে থাকা রোগীদের মধ্যে মোট ১৭৭ জনের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার তথ্য দিয়েছিল। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা মহানগরীর হাসপাতালগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৬২৪ জন ছাড়া পেয়েছেন। মহানগরীর বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৭২ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭১ জন, রাজশাহীতে দুই জন, খুলনায় ছয় জন, বরিশালে ২৯ জন, সিলেটে দুই জন, ময়মনসিংহে ৩১ জন এবং রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৫ জন। ঢাকা মহানগরীর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে ২৯৮ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ২১৩ জন, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে আট জন, ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৩৮ জন, রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে ১৫ জন, সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল থেকে ২২ জন, রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতাল থেকে ২৬ জন, মিরপুরের লালকুটি হাসপাতাল থেকে চার জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৬৩ জন জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক।