নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকার সাতভাইয়া পাড়ার পল্লিচিকিত্সক ডা. ইমান আলী। তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে গত ১৬ এপ্রিল। চার বছরের মেয়ে আর আট বছরের ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বাসাতেই থাকছেন। স্থানীয় প্রশাসন বাড়ি লকডাউন করলেও তার চিকিত্সার বিষয়ে কোনো খোঁজ নেয়নি, এমনকি খাদ্য সরবরাহেরও কোনো ব্যবস্থা করেনি।
ক্ষোভের সঙ্গে ইমান আলী বললেন, ‘চিকিত্সা তো পাই-ই নি, বরং খাবারের অভাবেও মরতে বসেছিলাম। প্রতিবেশীদের কাছেও আমরা এখন চরম ঘৃণিত, আমাদের একঘরে করে রাখা হয়। অনেক কষ্টে স্থানীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার (নারায়ণগঞ্জ-৩) হটলাইনে যোগাযোগ করি। পরের দিনই এমপি পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করেন। এই খাবার না পেলে আমিসহ পুরো পরিবারকে না খেয়েই মরে যেতে হতো হয়তো।’ ইমান আলী বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৫ দিন ধরে পরিবার নিয়ে ঘরবন্দি। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কখনো অর্ধাহারে, কখনো অনাহারে দিন কাটে। চিকিত্সা তো দূরের কথা, একাধিকবার যোগাযোগ করলেও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনসহ কেউ সাড়া দেয়নি। এই কয়েক দিনে তারা একবার খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি।’ তিনি জানান, ‘বৈদ্যের বাজারে চেম্বার করে জীবনজীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। ১৩ এপ্রিল হঠাত্ তার গলায় ইনফেকশন দেখা দেয়। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে তার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন চিকিত্সক। ১৬ এপ্রিল তার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়ে। ঐ দিনই সোনারগাঁও উপজেলার সহকারী কমিশনার আল মামুনের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাইকিং করে ইমান আলীর বাড়িসহ আরো পাঁচটি পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করেন।’
বন্দিজীবনের বর্ণনা দিয়ে ইমান আলী বলেন, ‘লকডাউনের পর ঘোষণা করে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে একেবারে আলাদা থাকার পরামর্শ দেন। তিনি পাঁচ পরিবারকে খাদ্যসহ যে কোনো সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু পরে তারা আর কোনো খবর রাখেননি। প্রতিবেশীরা কাউকেই আমাদের বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। আত্মীয়-স্বজনদেরও কিছু আনতে দেয়নি। এভাবে ঘরে যা ছিল, তা কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে চিকিত্সা নেব, নাকি পরিবারের খাবার জোগাব, সেই চিন্তায় দিশাহারা হয়ে যাই।’
পল্লিচিকিত্সক ইমান আলী আরো বলেন, ‘লকডাউনে পড়া পরিবারগুলোর গর্ভবতী নারী ছাড়াও কয়েকটি শিশু ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এবং এসিল্যান্ডকে বারবার ফোন দিয়েছি, এসএমএস দিয়েছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। ২৫ এপ্রিল স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে রাত ১১টার দিকে ফোন দিয়ে আমাদের অসহায় অবস্থার কথা জানাই। পরের দিন ১২টার আগেই পাঁচ পরিবারের জন্য আট বস্তায় চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার, শিশুখাদ্য, ইফতারিসহ সবকিছু দিয়ে যান।’ এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখানে সহযোগিতার বিষয়টি বড়ো নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। আমার হটলাইন খুলে দিয়েছি। যে কেউ সাহায্য চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’