কাশ্মীরে গোলাগুলিতে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ৭

ভারতনিয়ন্ত্রিত উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারার হান্দোয়ারায় জঙ্গিদের সঙ্গে রাতভর গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক কর্নেল ও মেজরসহ পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে এক পুলিশকর্মী এবং আরো দুই জওয়ান রয়েছেন। এই সংঘর্ষে দুই জঙ্গিও নিহত হয়েছে বলে সেনা সূত্র জানিয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইট করে তিনি বলেছেন, ‘হান্দোয়ারায় নিহত সেনাদের আত্মত্যাগ ও সাহস মনে রাখবে দেশবাসী। ভারতবাসীকে রক্ষায় তারা নিষ্ঠার সঙ্গে অক্লান্তভাবে কাজ করে চলেছেন। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’

সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার বিকেল পৌনে ৪টা নাগাদ কুপওয়ারার ছাঙ্গিমুল্লা এলাকায় জঙ্গি উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযানে নেমেছিল যৌথ বাহিনী। ঐ দিন বিকেলেই এলাকার রাজওয়ার জঙ্গলে জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি চালায় তারা। কিন্তু সেখানে জঙ্গিদের খোঁজ না পাওয়ায় গোটা ছাঙ্গিমুল্লা ঘিরে অভিযান শুরু করে বাহিনী। পরে গোপন সূত্রে বাহিনী খবর পায়, ছাঙ্গিমুল্লাতেই জঙ্গিরা একটি বাড়িতে কয়েক জনকে বন্দি করে রেখেছে। সেখানে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন এক কর্নেল ও মেজর।  আশপাশের বাড়িগুলো ফাঁকা করে অভিযানে নামেন সেনারা। বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে জঙ্গিরা। পালটা জবাব দেয় বাহিনীও। এভাবে বেশ কয়েক ঘণ্টা দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। তারপর কিছুক্ষণ গুলিবর্ষণ বন্ধ থাকে। এই সুযোগে বাহিনী ঐ বাড়ির আরো কাছে গিয়ে বেষ্টনী আরো কড়াকড়ি করার চেষ্টা করে। ফের গুলির লড়াই শুরু হয়।

সেনা সূত্রে জানা গেছে, বাহিনীর যে দলটি বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেছিল, তাদের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে ব্যাপক গুলির লড়াই শুরু হয়। রাতভর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গুলির লড়াইয়ে সেনার দুই শীর্ষ অফিসার, দুই জওয়ান এবং কাশ্মীর পুলিশের এক কর্মী নিহত হন। নিহত হয়েছে দুই জঙ্গিও।