আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশের জয়-পরাজয় এখন হরহামেশাই থাকে। ফুটবলনির্ভর করছে ঘরোয়া লিগের উপর। দেশের বাদবাকি যেসব খেলা রয়েছে সেই সব খেলায় যেভাবে সাফল্য আসে তা ধূমকেতুর মতোই। তারপরও দেশের এই সব খেলাধুলায় হাজার হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে। এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছিল যুব গেমস এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল। বিওএ আয়োজন করেছিল যুব গেমস। এটাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। সমালোচনা হয়েছে। তবে যুব গেমস তৃণমূলে সাড়া ফেলেছিল। জাতীয়পর্যায়ে যুব গেমসের ক্রীড়াবিদরা নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দেশেজুড়ে সাড়া ফেলেছিল, বছরের শেষ প্রান্তে।
২০১৮ সালের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় গোলকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের দুই শুটার শাকিল আহমেদ এবং আব্দুল্লাহ হেল বাকি রুপার পদক জয় করে নতুন বছরে সুন্দর শুরু করেছিলেন। আব্দুল্লাহ হেল বাকি পর পর দুই আসরে রুপার পদক জিতলেন। আর ২৮ বছর পর পিস্তল ইভেন্টে।
জাকার্তা এশিয়ান গেমস আসরে ফুটবল যতটুকু সম্ভাবনার আলো জ্বালিয়েছিল। ঠিক তার উল্টো চিত্র ছিল অন্যান্য খেলায়। কোথাও পদকের দেখা পায়নি বাংলার ক্রীড়াবিদরা। হকিতে মালয়েশিয়ান কোচ গোবিনাথনকে এনে দায়িত্ব দিয়েছিল। জাকার্তা এশিয়ান গেমস হকিতে লক্ষ্য ছিল ছয় নম্বর হওয়া। সেটা হয়েছে। কুস্তি, ভারোত্তোলন, বাস্কেটবল, অ্যাথলেটিকস, গলফ, আরচারি, রোইং, পুরুষ কাবাডি, মহিলা কাবাডি, সাঁতার, শুটিং, বিচ ভলিবল সবই হতাশার খবর দিয়ে জানিয়েছে এশিয়ার মানে এখনও পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ।
হকি দল এবার আর্জেন্টিনায় যুব অলিম্পিক গেমসে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। ঘরের মাঠে এ বছর এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ ষষ্ঠ স্থান পায়। ঘরোয়া হকিতে বিতর্ক লেগেই ছিল। লিগে খেলতে না আসায় ঊষা ক্রীড়া চক্রকে অবনমন করিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্য দুই ক্লাবের কর্মকর্তা বহিষ্কার হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শাস্তি থাকবে কি না বলা কঠিন। দাবাড়ুদের আক্ষেপ এবছরও গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট হলো না। ফেডারেশন কর্মকর্তা তরফদার রুহুল আমিন অবশ্য আবারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন বছরে হবে। দাবা প্রিমিয়ার লিগে খেলেননি গ্র্যান্ডমাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব এবং এনামুল হোসেন- এই দুজনের মতে অলিম্পিয়াড এবং জাতীয় দাবা ছাড়া অন্য কোনো খেলায় ফেডারেশন আগ্রহী নয়।
ভলিবলের ভালো খবরের মধ্যে ছিল এবারই প্রথম এশিয়ান ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপে অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ। ঢাকায় হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন ভলিবলের তৃতীয় আসর। বাংলাদেশ ফাইনাল খেলেছিল মিরপুর ইনডোরে। সাঁতারের কথা, এ বছরও হয়নি জাতীয় আসর। এ মাসেই হয়ে গেছে ইউনেক্স সানরাইজ ব্যাডমিন্টন বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্ট। প্রত্যেক গ্রুপেই ভরাডুবি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন যেটা হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের ২০টি পদকদের মধ্যে ১৭টি পায় বাংলাদেশ। ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিজেরা নিজেরা। ভারোত্তোলনের কেলেঙ্কারি নারী ক্রীড়াবিদের মানসম্মান খুইয়েছে। আরচারি নিয়মিত হচ্ছে। নতুন বছরেও আছে খেলাধুলা। নতুন নির্বাচনের পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনও নতুন করে পথ চলতে শুরু করবে, এমন প্রত্যাশা ক্রীড়াঙ্গনের।