করোনা ঝুঁকিতে আদমজী ইপিজেড ও ফতুল্লা বিসিকের শ্রমিক

কারখানায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় গাদাগাদি

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জকে করোনা ভাইরাসের ‘এপিসেন্টার’ বলে মনে করছে আইইডিসিআর। অন্য ২১টি জেলায় নারায়ণগঞ্জ থেকেই করোনা ছড়িয়েছে এমন দাবিও করেছে আইইডিসিআর। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত হাজার ছাড়িয়েছে। তবে এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জে চালু করা হয়েছে গার্মেন্ট শিল্প। এছাড়াও করোনার ঝুঁকির মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচল করা হয়েছে ২৩২টি শিল্পকারখানা। তবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঝুঁকিতে ফতুল্লার বিসিক ও আদমজী ইপিজেডের শ্রমিকরা। কারণ সেখানে কারখানার ভেতরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হলেও প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়ে নেই সামাজিক দূরত্বের বালাই। এরই মধ্যে আদমজী ইপিজেডের একজন নার্স ও একজন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায়  সে আশঙ্কা আরো বেড়েছে জনমনে।

জানা গেছে, ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে ৭১৪টি প্লটে গড়ে ওঠা কয়েকশত গার্মেন্ট ও নিটিং কারখানায় কর্মরত রয়েছে ২ লক্ষাধিক শ্রমিক। অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে ৪৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উত্পাদনে রয়েছে। যার মধ্যে ২০টি বিদেশি, ৭টি যৌথ মালিকানাধীন ও ১১টি বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সেখানে কাজ করছে ৫৮ হাজার ২১২ জনের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী। এদিকে গত শনিবার চালু করেছে ২৩২টি শিল্পকারখানা। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ২৩৫ কারখানার মধ্যে চালু হয়েছে ২৫টি।  বিকেএমইএর ৭৯২ কারখানার মধ্যে ১৬৫টি, বেপজার অধীনে থাকা ইপিজেডে ৪৮ কারখানার মধ্যে ২৫টি ও বিটিএমএর ১৭২টির মধ্যে ১৭টি চালু ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা এরই মধ্যে যোগদান করে কাজ করছেন। করোনার এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব মেনেই কারখানাগুলো সচল করা হয়েছে বলে মালিকপক্ষরা জানিয়েছে। তবে কারখানার বাইরে তাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ফতুল্লার শিবু মার্কেট শিল্পাঞ্চলও ঝুঁকিপূর্ণ।

নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪-এর পরিদর্শক (ইনটেলিজেন্স) শেখ বশির আহমেদ জানান, আমরা মাইকিং করছি, মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং শ্রমিকদের বুঝাচ্ছি যেন নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব তারা নিশ্চিত করে। প্রতিটি কারখানায় হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, গ্লাভস মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।