সীমিত আকারে চলছে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ

করোনা মহামারির মধ্যেও থেমে নেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ। বন্ধ হয়নি রাজধানীর স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজও। তবে মেট্রোরেলের কাজ কিছুটা সীমিত পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের কাজও অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে  দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১৯ ও ২০ নম্বর পিলারের ওপর ২৯তম স্প্যানটি স্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে। এর ফলে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৪ হাজার ৩৫০ মিটার। প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও চলছে পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ তৈরির কাজ।

উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ও রেল মন্ত্রণালয় মিলিয়ে এই চার প্রকল্পে ব্যয় ১০০ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগে থেকেই নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া বাড়তি ব্যয় ছিল সবগুলো প্রকল্পে। তবে এখন করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যয় আবারও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আবু নাছের টিপু বলেন, এসব প্রকল্পে করোনা ভাইরাসের প্রভাব সরাসরি পড়েনি। গতকাল পর্যন্ত প্রকল্পের কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি। এমনকি প্রকল্প নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চীনের উহান হওয়ার পরও চীনা কর্মকর্তারা কোয়ারেন্টাইন মেনে দেশে ফিরে কাজে যোগ দিয়েছেন। যেসব কর্মকর্তা ফিরতে পারেননি তাদের বিকল্প নিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়েছে।

টিপু বলেন, রাজধানীর মেট্রোরেলের সীমিত পর্যায়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ডিপো এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান আছে। মেট্রোরেলের স্টেশন          নির্মাণের স্টিল ফ্রেম নির্মাণের কাজ গাজীপুরে চলছে। এরই মধ্যে প্রথম ট্রেনটির নির্মাণকাজ জাপানে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয়টির কাজ চলছে। পরিস্থিতি অনুকূলে হলে প্রথম ট্রেনটি আগামী জুন মাসের মধ্যে ঢাকায় আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, ঢাকা বিমানবন্দর হতে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ সীমিত পর্যায়ে চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে টঙ্গী-গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোমবার পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে ৪ হাজার ৩৫০ মিটার। সকালে ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন ওজনের স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে স্বপ্নের এই সেতু অগ্রগতির আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, সকাল থেকেই স্প্যানটি পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে খুঁটির ওপর তুলে দেওয়া হয়। চলতি মাসেই ৩০তম স্প্যানও বসার কথা রয়েছে। এছাড়া এরই মধ্যে বসানো স্প্যানগুলোতে দিনরাত কাজ করছে দেশি-বিদেশি প্রায় ২ হাজার কর্মী।