করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে নিদারুণ কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে সাভারের গণপরিবহন শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন থাকায় পরিবার নিয়ে চরম দুর্দশায় দিন পার করছেন এসব গণপরিবহনের শ্রমিকরা। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে খাবার ও সাহায্যের দাবিতে ইতিমধ্যে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে দুই দফায় বিক্ষোভও করেছে। এদিকে বছরজুড়ে সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা বাস, মিনিবাস, পিকআপ, হিউম্যান হলার থেকে বিভিন্ন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করলেও সেসব শ্রমিক-মালিক সংগঠন ও নেতাদের এখন আর দেখা পাচ্ছেন না শ্রমিকরা।
সরেজমিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে কিংবা ফাকা মাঠের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সরকার কর্তৃক সব ধরণের গণপরিবহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে এসব গণপরিবহনে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। ফলে গাড়ির চাকা থেমে যাওয়ার পর এসব শ্রমিকদের জীবন জীবীকার চাকাও বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিক পক্ষও তাদের কোন সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।
এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে বাধ্য হয়ে গত মঙ্গল ও বুধবার সড়কে আন্দোলনে নামেন শতাধিক গণপরিবহন শ্রমিক। এসময় তারা ত্রাণ সহায়তা, সারা বছর শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ ও অবিলম্বে গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, করোনার দোহাই দিয়ে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হলেও সাহায্যের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি পরিবহন শ্রমিকদের জন্য। অনেক দিন যাবত কর্মহীন হয়ে চরম কষ্টে দিন যাপন করতে হচ্ছে। খাদ্য সংকটে ঘরে খাবার না থাকলেও তাদের খোঁজ নেয়নি কেউ। এছাড়া রাস্তায় ছোট ছোট অনেক পরিবহণ চলছে, চালু হয়েছে পোশাক কারখানা কিন্তু পরিবহণ চলতে দেয়া হচ্ছেনা। তাই খাদ্য সহায়তার দাবি জানান তারা।
ধামরাই-গুলিস্তান রোডে চলাচল করা বাসের হেলপার ইলিয়াস বলেন, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় দেড় মাস কর্মহীন অবস্থায় থাকলেও কেউ তাদের কোন প্রকার ত্রাণ কিংবা সহায়তা করেনি। এতে পরিবার নিয়ে তারা চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশার মধ্য দিন পার করছেন।
রেন্ট-এ কারে মাইক্রোবাস চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, অনেকদিন ধরে গাড়ি বন্ধ থাকায় আমাদের আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তায় গাড়ি বের করতে পারছি না। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
ইত্তেফাক/বিএএফ