বেতন পরিশোধ না হওয়ায়

উত্পাদনে থাকতে পারবে না ৫০৯ কারখানা

রিয়াদ হোসেন

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধে সরকারের তাগাদা থাকলেও মে মাসে এসেও মার্চের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি শিল্পাঞ্চলের অন্তত ৫০৯টি কারখানা। ঢাকা মেট্রোপলিট পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন কারখানা হিসাব করলে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। নির্দিষ্ট সময়ে বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ এসব কারখানা ভবিষ্যতে আর ব্যবসা চালাতে পারবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এসব কারখানার বিরুদ্ধে শ্রম আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে এবং আগামী জুলাইয়ে কারখানাগুলোর নবায়ন স্থগিত করা হবে। নবায়ন স্থগিত করা হলে কারখানাগুলোর উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে কারখানায় বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ইস্যুতে অসন্তোষ লেগেই আছে। সর্বশেষ গতকালও আশুলিয়া, গাজীপুরে এই ইস্যুতে অন্তত ১০টি কারখানায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর মালিবাগে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের মালিকানাধীন ড্রাগন গ্রুপের একটি কারখানার শ্রমিকেরা বেতন পরিশোধসহ অন্যান্য দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করেছেন।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও যশোর মিলিয়ে ৭ হাজার ৬০২টি কারখানা নিবন্ধিত। এর মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য কারখানা যথাক্রমে ১ হাজার ৮৮২ ও ১ হাজার ১০১টি। এছাড়া টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর ৩৮৯, বেপজা এলাকায় ৩৬৪ এবং অন্যান্য খাতের আরো ৩ হাজার ৮৬৬টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল নাগাদ ৫০৯টি কারখানা বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারেনি। বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ কারখানার মধ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য কারখানা রয়েছে ১৫২টি। যদিও সংগঠন দুটি দাবি করে আসছে, তাদের প্রায় সব শ্রমিক বেতন পেয়ে গেছেন। বেতন পরিশোধে অপেক্ষাকৃত বাজে অবস্থা সংগঠন দুটির সদস্যবহির্ভূত ও গার্মেন্টস এবং অন্যান কারখানার। ঐ সব কারখানার বিষয়ে যথাযথ নজরদারির ঘাটতি রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিজিএমইএ সংগঠনটির সদস্যভুক্ত ৪৬টি কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকারের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। যদিও বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, দেউলিয়া ঘোষণা কিংবা একেবারে বন্ধ হওয়া ছাড়া কারখানাগুলোর পক্ষে এ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।

 শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বেতন-ভাতা ও ছাঁটাই ইস্যুতে গতকাল সাভারের আশুলিয়ার আদিয়াত অ্যাপারেল ও জিয়াশা ফ্যাশনে আন্দোলন হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুরে সাত্তার টেক্স, ইবি টেক্স, সান চেরি ফ্যাশনে শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে আরো কিছু এলাকায়ও অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার ইত্তেফাককে জানান, তাদের হিসাবে প্রায় ১৫টি কারখানায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের করোনা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করানো হচ্ছে। অন্যদিকে সাত কর্মদিনের মধ্যে বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও মাস পার হওয়ার পরও দিচ্ছে না। সরকার সহযোগিতা করার পরও বেতন পরিশোধ না করা ইচ্ছাকৃত উল্লেখ করে তিনি এসব কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে এপ্রিলে ৬৫ শতাংশ (কাজ না হওয়া কারখানায়) বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এর বিরোধিতা করে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল। তারা শ্রমিকদের শতভাগ বেতন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।