গনি দাদার কাছে ভাত পৌঁছে দেবার জন্য ঘণ্টাখানেক হয়ে গেল প্রস্তুত হয়ে আছে টুবলু। যেতে দিচ্ছে না এষা বু। গনি দাদা পাশের গলিতেই থাকেন। এষা বু বলছে, দ্যাখ টুবলু ঝামেলা করবি না। এখন দেশের অবস্থা ভালো না। তোর যেতে হবে না। দরকার হলে আমি যাব।
টুবলু কিছুতেই বুঝতে পারছে না এষা বু কেন যেতে চাচ্ছে। কোনোদিন তো এষা বু যায় না। শেষ পর্যন্ত এষা বু গেল। দশ মিনিটের মধ্যে চলেও এলো।
জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল টুবলু। এখান থেকে রাস্তাঘাট সব দেখা যায়। রাজু-অপুরা গেলেও দেখা যায়। কথাও বলা যায়। কিন্তু কেউ যাচ্ছে না। স্কুলও বন্ধ। সবকিছুই বন্ধ। এষা বু বলে লকডাউন চলছে। লকডাউন কথাটার অর্থ বুঝতে পারে না টুবলু। এষা বু এলো টুবলুর কাছে। বলল, এখানে কী করছিস? যা বিছানায় গিয়ে বস।
দিনগুলো ঘরেই কাটাচ্ছে টুবলু। মন ভালো নেই। আজ এষা বু রান্না করছে। মার শরীর বোধহয় ভালো নেই। মা শুয়ে আছে। সাহস করে এষা বু-র কাছে গেল টুবলু। বলল, এষা বু লকডাউন কবে যাবে?
এষা বু অবাক হয়ে বলল, কোথায় যাবে? লকডাউন অনেক দিন থাকবে।
করোনা মানে কী এষা বু?
গম্ভীর হয়ে বলল এষা, একরকমের অসুখ।
আজকাল তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তে হয় টুবলুকে। বাধ্যতামূলকভাবেই শুতে হয়। আজ একটা মজার স্বপ্ন দেখল টুবলু। স্কুলের মাঠে খেলছে ওরা। ওর সব বন্ধুই আছে ওখানে। ঘুম ভেঙে গেল টুবলুর। কেবল সকাল হয়েছে। এষা বু-র কাছে এলো টুবলুর। বলল, জান এষা বু স্কুল খুলেছে। আজ খেলার মাঠে সবাই এসেছিল।
এষা বু গম্ভীর হয়ে বলল, আরো অনেক দিন স্কুল বন্ধ থাকবে।
তার মানে লকডাউন চলবে। হা করে এষা বু-র মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল টুবলু। এষা বু বলল, যা পড়তে বস।