আমাদের প্রাণপ্রিয় নগরী ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বর্তমানে বুড়িগঙ্গা নদী একটি বুড়িগঙ্গা নর্দমায় পরিণত হচ্ছে। যদিও অনেক মানুষের জীবন-জীবিকা এই নদীর পানির উপর নির্ভরশীল। অথচ, এই শহরে প্রতিদিন ৪৫০০ টন আবর্জনা নদীতে ফেলছে। গবেষকদের মতে, প্রায় ৯টি শিল্পাঞ্চল এই নদী দূষণের প্রাথমিক উত্স। টঙ্গী, সাভার, হাজারীবাগ ইত্যাদি শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ ছাড়াও বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা এই পানির সাথে মিশে পানিকে দূষিত করছে ও নানা রকম পানিবাহিত জীবাণুর অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছে।
সমপ্রতি ‘জল ও জীবন’ শিরোনামের আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলোর মাধ্যমে দেশের পানি ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। জলে ভরা নদী অথচ খাবার পানি নেই, পরিবারের মায়েরা সন্তানরা নৌকা পাড়ি দিচ্ছে আর খাবার পানি সংগ্রহ করছে। নোংরা-আবর্জনায় হেঁটে বেড়াচ্ছে টোকাই ছেলেটা, তার জীবিকা যেন এখানেই। এমন নর্দমার পাশ দিয়ে আমরা হেঁটে যেতেই আপত্তি করি, কিন্তু ওই শিশু ওই কিশোর নিজের জীবিকার সন্ধানে এভাবেই বস্তা কাঁধে হেঁটে যায়।
কৃষি কাজে নারীদের অংশগ্রহণ এখন চোখে পড়ার মতো। কোনো কাজই ছোট নয়। যখন নদী ভরা পানি থাকে তখন তারা জীবিকার জন্যে পানিতে, আর অবসরে সেই নৌকায় ঘুমিয়ে পড়ে। অনেক নলকূপের জীবন উঠে এসেছে ছবিতে, আমাদের সুপেয় পানি পেতে নলকূপের উপর নির্ভর করতে হয়, অথচ আর্সেনিক এর কবলে আমাদের নলকূপগুলো। খাঁ খাঁ ফেটে যাওয়া মাটির মাঝে দুরন্ত কিশোরের শৈশব। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা মেটায় অনেকে।
আমাদের দেশে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে ৭শ’ নদী ও শাখা নদী রয়েছে। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নদীর গুরুত্ব অনেক। এ ছাড়া গ্রামের ৯৮ ভাগ মানুষ পানি সুবিধার আওতায় থাকলেও বর্তমানে দেশের প্রায় ২০ শতাংশ টিউবওয়েলে আর্সেনিক বিদ্যমান এবং প্রকৃত নিরাপদ পানির আওতায় দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ। সুপেয় বা নিরাপদ পানি প্রাপ্যতা এখনও দেশের কোথাও কোথাও মরীচিকা। টেকসই উন্নয়নে সকলের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
n লেখক : প্রাবন্ধিক