ইউরোপে মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে যুক্তরাজ্য

ইউরোপে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যায় ইতালিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পৌঁছে গেল যুক্তরাজ্য। দেশটিতে প্রাণহানি ৩২ হাজার অতিক্রম করেছে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, তারা করোনার টিকা আবিষ্কার করে বিশ্বকে পথ দেখাতে চায়। এর জন্য কোটি কোটি টাকাও উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে এর খরচ নিয়ে সমালোচনা আছে। চীনের ল্যাব থেকে ভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন শীর্ষ মার্কিন চিকিত্সক। ইউরোপও চীন থেকে ভাইরাস এসেছে এমন দাবি করলেও ফ্রান্সে গত ডিসেম্বরেই করোনা ভাইরাসে এক ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

ইতালিকেও ছাড়াল যুক্তরাজ্য

ইউরোপে কোভিড-১৯-এ                সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু ছিল ইতালিতে। কিন্তু গতকাল পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাজ্য মৃতের দিক দিয়ে ইতালিকে অতিক্রম করেছে। দেশটিতে ৩২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে করোনায়। দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, কেবল ইংল্যান্ডেই মারা গেছে ২৯ হাজার ৬৪৮ জন। বাকিগুলো মারা গেছে ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে। যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ লাখে ৪২ দশমিক ৯ জন এবং ইতালিতে ৪৭ দশমিক ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতালিতে মোট মারা গেছে ২৯ হাজার ৭৯ জন এবং আক্রান্ত ২ লাখ ১১ হাজার ৯৩৮ জন। আর বিশ্ব জুড়ে গতকাল সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৩৬ লাখ ৭১ হাজার ৮১২ এবং প্রাণহানি হয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৪১ জনের।

পথ দেখাতে চায় ইউরোপ

করোনা ভাইরাসের টিকা, আরো উন্নত চিকিত্সা ও পরীক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কারের লক্ষ্যে বিশাল অঙ্কের অর্থ অঙ্গীকার করেছে বিশ্বের অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান। ইইউর নেতৃত্বে এমন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞের মতে, করোনার সংকট কাটিয়ে গোটা বিশ্বে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় টিকা। মানবজাতির সামনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা করতে প্রায় ৭৫০ কোটি ইউরো প্রয়োজন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস অবশ্য এই অর্থ আরো পাঁচ গুণ লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন। সোমবার ইইউর নেতৃত্বে একাধিক বিশ্বনেতা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ৭৪০ কোটি ইউরো ব্যয়ের অঙ্গীকার করেছেন। সমালোচকেরা অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই অঙ্কের অর্থ মোটেই কোনো তহবিলে জমা হচ্ছে না। এর একটা অংশ সরাসরি ব্যয় করা হলেও বাকি অর্থ ঋণ ও জাতীয় খাতে উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

ফ্রান্সে সরকারিভাবে প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছিল ২৪ জানুয়ারি। কিন্তু প্যারিসের একজন ডাক্তার বলছেন, তার একজন রোগীর মধ্যে গত ডিসেম্বরেই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। ঐ রোগী আমিরোশ হামারকে নিউমোনিয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে দুইবারের পরীক্ষায় দেখা যায়, তার করোনা পজিটিভ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এমন তথ্য অস্বাভাবিক নয়। ফিনল্যান্ডে ১ জুন থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হচ্ছে। ঐ সময়ে আবার চালু হবে ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ। ১৪ মে থেকে ফিনল্যান্ডের সীমান্তও আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডের্ন বলছেন, সীমান্ত খুলে দিতে এখনো অনেক দেরি আছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাবিনেটের সঙ্গে একটা বৈঠকের পর তিনি এই ঘোষণা দেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আলাদা একটা জোন তৈরি করে ভ্রমণ চালু করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। এর মধ্যে ৫০ লাখ লোকের হাতে কোভিড-১৯ ট্র্যাকিং অ্যাপ আছে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ট্রাম্পের দাবি নাকচ শীর্ষ মার্কিন বিশেষজ্ঞের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বারবার দাবি করে আসছেন, চীনের উহানের একটি ভাইরাসের গবেষণাগার থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। চীন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রেরই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজর পরিচালক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউচি। তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, করোনা ভাইরাস চীনের গবেষণাগার থেকে ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার ভাইরাসটি বনাঞ্চল থেকে গবেষণাগারে আনা হয়েছে কিংবা গবেষণাগার থেকে উহানে ছড়িয়ে পড়েছে এমন কোনো প্রমাণও নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়েছে ইরানের বিমান!

বিবিসির তদন্তে উঠে এসেছে, ইরানের একটি এয়ারলাইন মধ্যপ্রাচ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। এই বিমান কর্তৃপক্ষ ইরানের রেভ্যুলিউশনারি গার্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাহান নামের এই বিমান ইরান থেকে ইরাক ও লেবাননে যাত্রী নিয়ে গেছে— যার কারণে এই দুই দেশে প্রথম আক্রান্ত হতে দেখা গেছে। তবে মাহান এয়ারের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।—বিবিসি, ডয়চেভেলে, রয়টার্স ও আলজাজিরা