বরিশালে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) কার্যক্রম জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। জেলা প্রশাসনের তদারকিতে দৈনিক ১৮ জন ডিলার পাঁচ ধরনের নিত্যপণ্য বিক্রি করায় বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। টিসিবির প্রত্যেক ডিলারের সঙ্গে জেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োজিত তদারকি কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকায় সঠিক ভাবে সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্য ক্রয় করতে পারছেন। ফলে দিনে দিনে বরিশালে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে টিসিবির কার্যক্রম। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ হচ্ছেন বেশি দামে পণ্য বিক্রয় করা দোকানদারেরা। অধিক মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে তারা বাজারগুলোকে অস্থিতিশীল করতে টিসিবির কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা আগে টিসিবির ডিলারদের কাছ থেকে এসব পণ্য কিনে তা বেশি দামে বিক্রি করত। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কঠোরতায় এই অপতত্পরতা বন্ধ হওয়ায় টিসিবির ডিলারদের হেনস্তাসহ এ কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি এক আইনজীবী কর্তৃক ডিলার ও মনিটরিং কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এক দিনের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তিনি বরিশাল থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টিসিবির বরিশাল শাখার ডিলার মশিউর রহমান রবিবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২ মে বিকালে মিনি ট্রাকে করে নগরীর সোনামিয়ার পুল বাজারে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করছিলেন ডিলার মশিউর রহমান। এ সময় রবিউল ইসলাম রিপন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি পণ্য বিক্রয়ে বাধা দিয়ে জানতে চান কার অনুমতি নিয়ে পণ্য বিক্রি হচ্ছে এবং বাজার কমিটির অনুমোদন কেন নেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে ডিলার ও সহায়তাকারী অফিসারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন রিপন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা পেলে রবিউল ইসলাম রিপনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) জেলা সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা বলেন, জেলা প্রশাসনের সরাসরি তদারকিতে টিসিবির পণ্য বিক্রি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ কার্যক্রমে যারা বাধা দিচ্ছেন তারা আইনের ঊর্ধ্বে নন। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এস, এম অজিয়র রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বরিশালের সর্বস্তরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলাগুলোতেও নির্বাহী অফিসাররা সরাসরি তদারকি করায় টিসিবির কার্যক্রমে কোনো প্রশ্ন আসছে না। তিনি এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।