তাবলিগের নামে সৌদি আরবে গিয়ে ইমাম মাহাদির সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় এক মাস পূর্বে কথিত ‘হিজরত’ করা জেএমবির ১৭ অনুসারীকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। সিটিটিসি জানায়, তারা জঙ্গি কার্যক্রম করার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে যান। সৌদি আরবে গিয়ে তারা কথিত ‘ইমাম মাহাদির সৈনিক’ হিসেবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চাইছিলেন। তাদের বলা হয়েছিল, করোনার দুর্যোগে আকাশ থেকে একধরনের গজব নেমে আসবে এবং সবকিছু ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে। তখন সীমান্তে কোনো পাহারা থাকবে না। এই সময় তারা যেন চলে আসেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—হায়দার আলী (৪৪), মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, জামিরুল ইসলাম (২৪), বিল্লাল হোসেন (৩৮), শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), সাইফুল ইসলাম (২৫), মোজাম্মেল হক (৩৩), শাহজালাল (৩৪), আক্তারুজ্জামান (৩০), মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), সোহাইল সরদার (৩৩), ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও সোহাগ হাসান (২০)।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিটিটিসির এডিসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কাকরাইল মসজিদের বিপরীত পাশে পাবলিক হেলথ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মোবাইল ফোন, ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশি টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, জনৈক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জিহাদের পক্ষে ইমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়ে অডিও-ভিডিও প্রকাশ করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা তার বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগপূর্বক ইমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাবলিগ জামাতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছানোর চিন্তা করেন। সে অনুযায়ী গত ১৮ মার্চ তারা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন ভারতে যাওয়ার জন্য। তাদের জানানো হয়েছিল, আগামী ৪০ দিন সূর্য উঠবে না, আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে, কাফিররা সবাই মারা যাবে, ইমানদারদের শুধু হালকা কাশি হবে, ইমাম মাহাদির আগমন এই রমজানে সমাগত, তাই তারা যেভাবে পারে সেভাবে যেন আসার চেষ্টা করেন। পরে তারা সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পেরে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই মোতাবেক ঢাকায় আসেন।
এডিসি তৌহিদুল ইসলাম আরো জানান, আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিতে গমন করে আর ফিরে আসেননি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাদ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরো সাত জন ইমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে সাৈদি আরবে হিজরত করেছেন বলে গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা হয়েছে।