করোনা লকডাউনের কারণে সরকারি বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে যে চাল গম বিলি হচ্ছে, তাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। লকডাউনে অবরুদ্ধ গরিব, শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চাল, ডাল পাঠাচ্ছে। রাজ্য সরকারও একই খাদ্যসাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই সাহায্য মানুষের হাতে পৌঁছচ্ছে না। পৌঁছলেও তা পরিমাণে কম, গুণগত মানেও খারাপ। সরকারি বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে ত্রাণ বিলির ক্ষেত্রে এমন বহু অভিযোগ নিয়ে মানুষের ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। সোমবার জার্মান অনলাইন ডয়চেভেলের বাংলা বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রাজ্যে বিরোধী বিজেপি এবং কংগ্রেস ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে সরাসরি। সরকারের বক্তব্য, বিষয়টা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে বিরোধীরা। রাজ্যের বিজেপি নেতা, দুর্মুখ বলে পরিচিত সায়ন্তন বসু প্রশ্ন তোলেন, ‘মানুষ কী করে পাবে! কারণ ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমটাই তো পুরো গোলমাল হয়ে গেছে না? চাল, ধরা যাক পাঁচ কেজির বস্তা, সাধারণ মানুষের জন্য। সেটা তো মাঝপথেই তৃণমূল অফিসে চলে যাচ্ছে, খোলা বাজারে চলে যাচ্ছে। (মানুষ) পাচ্ছে তো দুই কেজি!’। সেটা কি কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাচ্ছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব? সায়ন্তন বসুর জবাব, জানিয়ে কী হবে! সর্ষের মধ্যেই যদি ভূত থাকে, সরকার যদি তার রাজনৈতিক দলকে, নিজের দলকে কন্ট্রোল না করতে পারে, তার নিজের দলের নেতাদের কন্ট্রোল না করতে পারে, তাহলে কী করে কী করবেন!’
তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার যে খাদ্যসাহায্য দিচ্ছে, রাজ্য যা দিচ্ছে, সেটা লোকের কাছে পৌঁছবে কী করে?
বিজেপি নেতার বক্তব্য, ‘পৌঁছচ্ছে না তো! আমি বলছি তো, মাঝপথে সেটা বিভিন্ন জায়গায় বিলি-বণ্টন, ডিস্ট্রিবিউশন, চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। একা রেশন ডিলারদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তৃণমূলের লোকাল লিডারদের প্রচণ্ড প্রেশার থাকে। এখান থেকে তৃণমূল যদি পয়সা তোলা টার্গেট করে, যে আমি এত পয়সা তুলব, ভোটের খরচ আছে, চিট ফান্ড বন্ধ হয়ে গেছে, তাহলে এখন কী হবে! কেন্দ্রীয় সরকার তো এফসিআই থেকে চালটা পাঠিয়ে খালাস। কেন্দ্রের চালটা যখন এফসিআই থেকে ডিলার নিয়ে যাচ্ছে, মাঝপথে সেটা হয় লুট হচ্ছে, নয় অন্যভাবে বিক্রি হচ্ছে।’
মাঝপথে সাহায্যের চাল বিক্রি হয়ে যাওয়া, ভালো চাল বদলে খারাপ চাল দিয়ে দেওয়া বা সরাসরি শাসকদলের নেতাকর্মীদের হাতে পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগ বিরোধী দল কংগ্রেসও তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও এমপি অধীররঞ্জন চৌধুরীর সাফ কথা, ‘বাংলার মানুষ যেন তাদের অধিকার পান। কোনো দয়া নয়। খাদ্য সুরক্ষায় তারা পাঁচ কিলো চাল, গম পান। করোনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার আরো পাঁচ কিলো চাল, এক কিলো ডাল দেবে বলেছে। রাজ্য সরকার বলেছে, তারাও পাঁচ কিলো চাল দেবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের লোক তা পাচ্ছে না কেন? পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হলো রেশন দপ্তর। কেন্দ্রীয় সরকার স্বর্ণ চাল দিচ্ছে। আমাদের কাছে খবর, তা মাঝরাস্তায় পালটে যাচ্ছে। সবাই জানেন, বাংলার রেশন মন্ত্রীর আরেকটা নাম টেন পার্সেন্ট মন্ত্রী। টেন পার্সেন্ট না পেলে উনি কাজ করেন না। কথায় কথায় কংগ্রেসের ওপর দোষ দেবেন না। রেশন না পেলে মানুষ প্রতিবাদ করবে না?’