বাংলাদেশকে হতে হবে গণতন্ত্রের রোল মডেল

 

ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসর জমে উঠেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংলাপের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সমঝোতা ও সহনশীলতার সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। অপরাজনীতির কবল থেকে ধীরে ধীরে দেশ মুক্ত হতে চলেছে বলেই মনে হচ্ছে। যে কারণে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা এর আগে আর কোনো জাতীয় নির্বাচনের আগে দেখা যায়নি। দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থেই রাজনীতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং সকল পক্ষকেই আরো সতর্ক ও সচেতন  হতে হবে। বিরত থাকতে হবে উসকানিমূলক, অসত্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির প্রবণতা থেকে। অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে সকল পক্ষকেই। শুধুমাত্র সকল দলের অংশগ্রহণই নয়, এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, সকল পক্ষই নির্বাচনী ফলাফলকে মেনে নিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় উত্সব পালন করবেন এবং বর্জন-বয়কটের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সংসদেও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। দেশবাসীও নির্বাচনকে উত্সব হিসেবেই গণ্য করে আনন্দে মেতে উঠতে চায়। দেশের মানুষ আর হামলা, মামলা ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি দেখতে চায় না। সবাই চায় দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি ফিরে আসুক, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক, দুর্নীতিমুক্ত হয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা আশা করি, একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হবে। 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার অনেক কিছু থাকলেও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার তেমন কিছু থাকে না। নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো তা প্রকাশ ও প্রচার করা হবে। এই ইশতেহারে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নানা কর্মসূচিসহ অনেক স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার উল্লেখ থাকবে। একইসঙ্গে জাতিকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্নের কথাও বলা হবে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এইসব প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্নের তেমন মূল্য নেই। সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া খুবই সীমিত। তাদের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, তারা অতি সাধারণভাবে মৌল মানবিক চাহিদা অর্থাত্ অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের ন্যূনতম নিশ্চয়তা চায়। একইসঙ্গে চায় স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তাটুকু। অসুখ-বিসুখে সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা সুবিধা পেতে চায় আর চায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানোর শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। যে কোনো সরকারি হাসপাতালে গেলেই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার করুণ চিত্র চোখে পড়বে। দেশে শিক্ষার মান বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই উন্নয়ন ফি, সেসন ফি, পরীক্ষা ফি, কোচিং ফি ইত্যাদির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হচ্ছে। দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে। কাজেই প্রতিটি দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেবে বলে আশা করি।

ফরিদপুর