খালিয়াজুরীতে ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষি

খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

খালিয়াজুরীতে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ উপজেলার চাষিরা। উপজেলার আদমপুর গোয়ালবাড়ি গ্রামের বর্গাচাষি প্রণয় পাল আক্ষেপ করে বলেন, এবার তিনি চাষ করেছেন প্রায় ১০ একর জমিতে। তার প্রতি একর জমি চাষে খরচ হয়েছে বীজ ধান কেনা, ধানের চারা উত্তোলন করে জমিতে নেওয়া, পরিবহন ও অন্যান্য খরচসহ মোট ৩২ হাজার টাকা। প্রতি একরে  ব্রি-২৮ ধান ৩৫ মণ, ব্রি-২৯ ধান ৪০ মণ ও হাইব্রিড ধান উত্পাদন করেছেন ৫০ মণ অনুসারে। ব্রি-২৮ ধান ৭০০ টাকা, ব্রি-২৯ ধান ৬০০ টাকা ও হাইব্রিড ধান ৫০০ টাকা মণ দরে কিছু বিক্রি করায় উত্পাদন খরচের চেয়ে একরপ্রতি তার ৭ হাজার ৭০০ টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানান তিনি। একই গ্রামের কৃষক রাখাল চন্দ্র বিশ্বাস, পাশের উদয়পুর গ্রামের সন্তোষ সামন্ত ও সেন্টু তালুকদার ধানের উত্পাদন খরচ বিষয়ে প্রণয় পালের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, এবার চমকপ্রদ ফলন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, ২৬ এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে এখানে ধান কেনার কথা ছিল। এবারের বোরো মৌসুমের শতভাগ ধান কাটা ইতিমধ্যে শেষ হলেও এখানকার প্রায় ১১ হাজার কৃষকের পুরো তালিকাটি সম্পন্ন করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এখন ধান ক্রয় কমিটির মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যেই ধান কেনা শুরু হবে। উপজেলার ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম জানান, ৭ মে লটারির মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে খালিয়াজুরী খাদ্য বিভাগের ধান কেনা অভিযান শুরু হবে।