সরকার আগামী পাঁচ বছরে করদাতা এক কোটিতে উন্নীত করতে চায়। বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (ই-টিআইএন) ৩৫ লাখের কিছু বেশি। তবে কর আদায়কারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মনে করে, ১৬ কোটি মানুষের দেশে করদাতার সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার কথা। করযোগ্য অনেকেই এখনো করের আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। নতুন করদাতা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে এনবিআরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলকে নতুন করে পুনর্গঠনের মাধ্যমে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কী উপায়ে এটিকে কার্যকর করা যায়, সে লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনবিআর সদস্য আরিফা শাহানার নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকেই কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে গঠিত কমিটি এই জরিপ অঞ্চলটিকে কার্যকর করতে কাঠামোগত পুনর্গঠনসহ কিছু সুপারিশ করবে।
প্রযুক্তির ব্যবহার, সেকেন্ডারি সোর্সসহ অন্যান্য মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশব্যাপী করযোগ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে করদাতার সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করতে চায় এনবিআর। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিআরটিএসহ পরিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ভূমি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও করদাতা শনাক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো করলেও কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলের মাধ্যমে পুরো জরিপ কাজ পরিচালনা করতে চায় এনবিআর। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল হাজার দুয়েক ব্যক্তি করদাতার কর সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর বাইরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী অঞ্চলে অবস্থিত কর অঞ্চলের ভূমির কর সংক্রান্ত কার্যক্রম দেখভাল করে। গত পাঁচ বছর আগেও দেশে টিআইএনধারী ছিল প্রায় ২০ লাখ। গত কয়েক বছরে এনবিআরের কিছু উদ্যোগের ফলে এই সংখ্যা বর্তমানে ৩৫ লাখের উপরে। বিশেষত চাকরিজীবীদের একটি অংশ এবং ঢাকা শহরে বাড়ি ও গাড়ির মালিকদের একটি অংশকে করের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এনবিআর মনে করে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহর, জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়েও অনেক মানুষ কর প্রদানের সামর্থ্য রাখে।
১৯৯২ সালে সরকার নিয়মিত জরিপের মাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন করদাতা খোঁজার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১০ লাখের মতো নতুন করদাতার সন্ধান পায়। তবে ২০০২ সাল থেকে এই জরিপ অঞ্চল অকার্যকর হতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে গত কয়েক বছরে এটি গুরুত্ব হারায়। তবে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোকে নতুন করদাতা খোঁজার লক্ষ্যে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তাতে খুব একটা ফল আসেনি। কেননা মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোর বেশিরভাগই কর আদায়সহ মূল কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে হয়।