হাওরে ৯৫ ভাগ ধান কাটা শেষ

করোনা পরিস্থিতিতে নানা সংকটের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাওরের পাকা ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে। বাকি জমির ধান উঠাতে আর মাত্র কয়েক দিন লাগবে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত হাওরে ৯৫ শতাংশ ও বিভাগে ৭৮ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শ্রী নিবাস দেবনাথ। হাওর পাড়ে এখন ‘খলা’য় কড়া রোদে কিষান-কিষানিরা ধান শুকিয়ে মাড়াই দিয়ে গোলায় উঠাচ্ছেন। সেই দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। 

কৃষকরা জানান, গত ১০ বছরেও প্রকৃতিকে এমন সদয় হতে দেখা যায়নি। সিলেটের চার জেলার সাড়ে ১৩ লাখ কৃষি পরিবারের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। কৃষকরা বলেন, ‘এবার আমাদের বড়ো পাওনা দুটি: সমুদয় ধান ঘরে তোলা আর ধান কাটার শ্রমিক সংকটের সমাধান।’ কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, সিলেটে ১ লাখ ৬২ হাজার ধান কাটার শ্রমিক ও কৃষকের সঙ্গে প্রশাসন, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীরাও ধান কাটায় যুক্ত ছিলেন।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, কৃষরা এখন হাওরে ধান শুকাচ্ছেন, মাড়াই দিচ্ছেন। তাদের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আরশাদ আলী জানান, শনির হাওরের পাঁচ কিয়ার  জমির ধান কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার দিয়ে কেটেছেন মাত্র দুই ঘণ্টায়। এতে তার মোট খরচ হয় ৬ হাজার টাকা। শ্রমিক দিয়ে কাজটি করলে খরচ পড়ত ১৬ হাজার টাকা। 

ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও মূল্য বাড়ানোর দাবি

এদিকে সিলেটের কৃষকরা অধিক পরিমাণে বোরো ধান ঘরে তুললেও পুরোপুরি খুশি হতে পারছেন না সরকার নির্ধারিত ধানের মূল্যে। গত বছর সরকার ধান কিনেছে মণ প্রতি ১ হাজার ৪০ টাকা দরে। এবারও একই দাম। হাওর, পরিবেশ ও কৃষিবান্ধব ব্যক্তিত্ব কাশমির রেজা বলেন, সরকারিভাবে ধানের মূল্য বৃদ্ধি প্রয়োজন ছিল। এছাড়া সরকার বেশি পরিমাণে ধান না কিনলে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে ধান কিনে মজুত করবে। প্রসঙ্গত, বাজারে বর্তমানে ধানের মূল্য প্রতিমণ ৭০০-৭৫০ টাকা।