পৃথিবীতে যাঁরা চির স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে সম্ভবত একটা জিনিসের খুব মিল আছে; আর সেটা হলো জাগতিক মায়া-মোহ ও লোভ-লালসা না থাকা। বঙ্গবন্ধু থেকে নেলসন ম্যান্ডেলা, পৃথিবীর যত অবিসংবাদিত নেতা, জ্ঞানীগুণী রয়েছেন তাঁরা সবাই নিজেদের অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন সমাজের মানুষের জন্য। সত্যের পক্ষে অনড় থাকতে গিয়ে তাঁদের সইতে হয়েছে নানান বঞ্চনা, জেল-জুলুম। তবু তাঁরা নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দেননি। যার কারণে মৃত্যুর পরও তাঁরা অমর। তাঁদের কীর্তি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে গৌরবোজ্জ্বল।
ভালো গুণগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে সততা। পৃথিবীতে যত কঠিন কাজ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো সত্ থাকা। লোভ-লালসা ত্যাগ করে সত্ থাকাটা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। বর্তমান যুগে ঐ গুণটি বিরল। তবে কিছু মানুষ সততাকে টিকিয়ে রাখতে পণ করেছেন। তাঁরা এই সততার বীজটি বপণ করার জন্য বেছে নিয়েছেন আমাদের নতুন প্রজন্মকে। একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে যেন সত্ ব্যক্তিত্ব উঠে আসে, সেজন্য বের করেছেন এক অভিনব কৌশল। আর সেটি হলো স্কুল প্রাঙ্গণে স্থাপিত সততা স্টোর। একবার ভেবে দেখুন তো এমন একটা দোকান যেখানে প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা আছে। কিন্তু দোকান পাহারা দেওয়ার কেউ নেই। মানে আপনি যদি কয়েকটা জিনিস নিয়ে সটকে পড়েন! তাহলে কেউ আপনাকে কিছু বলবে না। আপনি কি ওই কাজটা করবেন? করবেন কি করবেন না ওটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আমাদের খুদে শিক্ষার্থীরা তাদের নীতির ওপর এতটা অনড় যে তারা প্রত্যেকদিন তাদের সামনে ঐ রকম দোকান পেয়েও কোনো জিনিসে বিনামূল্যে হাত দেয় না। ব্যতিক্রমধর্মী দোকানগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো তাতে পণ্যসামগ্রী থাকবে, কিন্তু কোনো বিক্রেতা বা সিসি ক্যামেরা থাকবে না। তবে প্রতিটি পণ্যের মূল্য দেয়ালে টানানো। দোকানের কোনো এক পাশে ক্যাশবাক্স। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্যটি নিয়ে ঐ ক্যাশবাক্সে টাকা রাখে। খুদে শিক্ষার্থীরা এই সততা স্টোরের মাধ্যমে তাদের সততার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
সততা স্টোর এক সহজ সরল ধারণা হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আদর্শ। যেটা চর্চার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ছোট থেকেই অভ্যস্ত হয়ে উঠবে সততা আর মূল্যবোধের সঙ্গে জীবনযাপন করতে। ভাবতেই অবাক লাগে যে দেশে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়ে যায় দুর্নীতির মাধ্যমে। যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি অবৈধ আয়ের মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যায়। সে দেশে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা চোখের সামনে লোভনীয় জিনিস পেয়েও বিনামূল্যে তাতে হাত দেয় না! যারা নেতৃত্ব দেবে আগামীর বাংলাদেশের। যে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিরাট এক সততা স্টোর।
কক্সবাজার সরকারি কলেজ