সুন্দরবনের কাঠ পাচারে বন কর্মকর্তা, তদন্ত শুরু

বন কর্মকর্তা কর্তৃক সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ কেটে পাচারের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খাঁন গত বুধবার দুপুরে বনের ঘাগরামারী এলাকা হতে কাটতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সুন্দরী ও কাঁকড়া গাছ কেটে পাচার করছিল। পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছিল বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলার। এসময় পাচারে সহযোগিতা করা তিনজনের বক্তব্যে বেরিয়ে আসে এমন তথ্য। 

বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈন উদ্দি খাঁন বলেন, ওই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এসও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন আবার এ তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. এনামুল হককে। চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. এনামুল হক বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। আগামী রবিবার, সোমবারের মধ্যে তিনি এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

আরও পড়ুন: মাগুরায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী ৫১৬ পরিবারে তুলে দিলেন এমপি শিখর

উল্লেখ্য, পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন ঘাগরামারি এলাকা থেকে সুন্দরী ও কাকড়া গাছ কেটে তা ট্রলারযোগে পাচার করছিল। বুধবার (৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পাচার কাজে ব্যবহৃত করা হয় বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলার। গাছ বহনকারী ট্রলারে থাকা পাচারকারী তরুণ, সনজিৎ ও পংকজ বলেন, এ গাছ তাদের এসও আনোয়ার সাহেব ঘাগরামারী থেকে কেটে আনার অনুমতি দিয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় বনবিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, এ সংক্রান্ত ভিডিও এবং সংবাদ পেয়েছি, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

খোদ বনবিভাগের কর্মকর্তাই সুন্দরবনের গাছ কাটার ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বাগেরহাট জেলা সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ বলেন, বনবিভাগের অসাধু কর্তা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বনের গাছ কেটে পাচার হচ্ছে, যা প্রত্যক্ষভাবে সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় সুন্দরবন রক্ষায় বনবিভাগ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, কাজেই এই বনকে রক্ষা করতে হলে বনবিভাগের ওপর আস্থা না রেখে সরকারের উচিত বিশেষ নজরদারী করা।

ইত্তেফাক/এসি