রূপগঞ্জে ও কালিয়াকৈরে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

ইত্তেফাক ডেস্ক

বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে পোশাক শ্রমিকরা।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ফের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকার অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড কমপোজিট নামক গার্মেন্টসে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গার্মেন্টসের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় গার্মেন্টসের প্রোডাকসন ম্যানেজারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে তারা গার্মেন্টের ভেতর থেকে চেয়ার, টেবিল ও উত্পাদিত কাপড় সড়কে এনে আগুন জ্বালিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে। এতে করে দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকে। মহাসড়কের  উভয়দিকে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

গার্মেন্টের শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মার্চ মাসের বেতন না দিয়ে মালিকপক্ষ গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়। এরপর এপ্রিল মাসও চলে যায়। সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মালিকপক্ষ গার্মেন্টসের কর্মরত প্রায় ২ হাজার শ্রমিকের গত দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেননি। সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক আলী আকবর বৃহস্পতিবার বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। এদিকে দুপুরে শ্রমিকরা গার্মেন্টসের সামনে অবস্থান নেয়। বকেয়া বেতনের টাকা না পেয়ে তারা গার্মেন্টের ভিতরে ব্যাপক ভাঙচুর করে প্রোডাকশন ম্যানেজার সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, রূপগঞ্জ থানা পুলিশ এসে সড়কে অবস্থান নেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বেতনের ব্যাপারে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যায়। বর্তমানে সড়কের যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বকেয়া বেতনের দাবি ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের গুজবে গাজীপুরে দুটি কারখানায় গতকাল শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার সেইলর মুন নামের কারখানায় গতকাল  মার্চের বেতন দেওয়ার তারিখ ছিল। সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানায় বেতনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পারায় বিকালেও বেতন দিতে পারেনি। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কারখানায় ভাঙচুর চালায়। পরে রবিবার বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে শ্রমিকরা চলে যায়।