৬০ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় মহিম ও শহিদকে হত্যা করেন গানম্যান এএসআই কিশোর

সিসার কারখানা তৈরি এবং লাইসেন্স করে দেওয়ার জন্য মহিম ও তার পরিবারের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন মন্ত্রীর গানম্যান এএসআই কিশোর কুমার। ঘুষের এই ৬০ লাখ টাকার দ্বন্দ্বেই মহিম ও শহিদকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করে মুক্তযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের ওই গানম্যান। নিহত মহিম ও শহিদের পরিবার গতকাল বৃহস্পতিবার এই প্রতিনিধির কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। নিহত মহিম ও শহিদের পরিবারের স্বজনদের বুক ফাটা কান্নায় এখনো বাতাস ভারী হয়ে আসে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুটি পরিবার অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছে। মামলার ২২ দিনেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের আজগানা এবং ডাবলাপাড়া গ্রামে শহিদ ও মহিমের বাড়ি।

মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী কুতুবদিয়া এলাকায় ১৬ এপ্রিল রাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। মন্ত্রীর গানম্যান এএসআই কিশোর কুমারের বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামে। পিতার নাম নারায়ণ চন্দ্র।

র্যাব, ডিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গত ১৭ এপ্রিল আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া থেকে কিশোরকে গ্রেফতার করে। ওসি (তদন্ত) মো. ছানোয়ার জাহান জানিয়েছেন, কিশোর কুমারের নামে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অস্ত্র মামলা এবং নিহত শহিদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম একটি হত্যা মামলা করেছেন। মহিমের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গতকাল মহিমের স্ত্রী পারভীন বেগম ও ভাই আবদুর রহিম অভিযোগ করেন, এএসআই কিশোর কুমার তাদের সিসার কারখানা তৈরি ও এর লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ৬০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। টাকা নিয়ে তিনি সিসার কারখানা করে দেননি এবং কোনো লাইসেন্সও দেননি। বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ায় পরিবারটি এখন নিঃস্ব ও ঋণে জর্জরিত বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিশোরের কাছে টাকা ফেরত চাওয়ায় গুলি করে হত্যা করে মহিম ও তার বন্ধু শহিদকে। দুই কন্যা  মোনালিসা ও আলিফাকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন মহিমের স্ত্রী পারভীন বেগম। একইভাবে গুলিতে নিহত শহিদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও বৃদ্ধা মা মাজেদা বেগম অভিযোগ করেন, বন্ধু হিসেবে মহিমের সঙ্গে গিয়েছিল শহিদ। ঘাতক তাকেও হত্যা করেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল শহিদকে হারিয়ে কন্যা সুবর্ণাকে নিয়ে অসহায় ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মনোয়ারা।

এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, মন্ত্রীর গানম্যান হওয়ায় কিশোর কুমারের আধিপত্য ছিল পুরো এলাকায়। মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন লোকজনকে চাকরি দেওয়ার নামেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পেত না। ১৬ এপ্রিল রাতে কুতুবদিয়া এলাকায় ডেকে নিয়ে কিশোর পিস্তল দিয়ে মহিমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান শহিদ। আহত মহিমকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত ২৪ এপ্রিল মহিমও মারা যান। কিশোর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর মূল ঘটনা আড়াল করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলেও দুই পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, কিশোর পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত না বসায় তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়নি।