রামেক হাসপাতালে দ্বিতীয় করোনা ল্যাব চালুতে জটিলতা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনার দ্বিতীয় ল্যাব দ্রুত চালুতে তোড়জোড় শুরু করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ফজলে হোসেন বাদশা এমপি ও আয়েন উদ্দিন এমপি। এ লক্ষ্যে তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে ল্যাবটি চালুর দিন-তারিখ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একটি পলিমার্স চেইন রিঅ্যাকশান (পিসিআর) মেশিন রামেক হাসপাতালের আউটডোরে স্থাপনের জন্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেশিনটির প্যাকেট খুলেই দেখেননি। তবে চলমান করোনা মহামারিতে যখন ঘটনাটি জানাজানি হয়, তখন কর্তৃপক্ষ স্থান ও জনবল সংকটের কথা জানান।

সূত্র মতে, ল্যাবটি চালু করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানতে পারেন, প্রায় দুই বছর ধরে বাক্সবন্দি পিসিআর মেশিনের ফিলটারে সমস্যা রয়েছে। এ পর্যায়ে ল্যাবটি চালুতে তোড়জোড় শুরু করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ স্থানীয় তিন সংসদ সদস্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কথা বলার পর বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার তারা রামেক হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গেও বৈঠক করেন। 

চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেশিনটি চালু করে তা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকায় রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, দ্বিতীয় ল্যাবের হাইসেফটি স্ট্রাকচার বা নিরাপত্তা কাঠামো ও অন্যান্য সব উপকরণ দুই-এক দিনের মধ্যেই চীন থেকে আসার কথা রয়েছে। সেফটি স্ট্রাকচার রাজশাহীতে পৌঁছাতে আরো কয়েকদিন লেগে যাবে। হাইসেফটি স্ট্রাকচার ছাড়া পিসিআর ল্যাব চালু সম্ভব নয়। সেফটি স্ট্রাকচার ছাড়া নমুনা পরীক্ষায় করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেশিনটির ফিলটারে ত্রুটি শনাক্তের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ফিলটার সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে তাকে জানানো হয়েছে, অধিদপ্তরের সেন্ট্রাল স্টোরে পিসিআরের ফিলটার মজুত আছে। যেখান থেকে একটি রাজশাহীতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এদিকে রাজশাহীতে দ্বিতীয় ল্যাব চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সংগ্রহেও সংকট দেখা দিয়েছে।