ডিএসইর পরিচালক ইমন ও রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুল কারাগারে

ডিজটাল নিরাপত্তা আইনে রমনা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলামকে (৩৯) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। তাদের সাত দিনের রিমান্ড শুনানি সাধারণ ছুটির পরে হবে বলে বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতে রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের এ আদেশ দেন।’ রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ এনে বুধবার রাতে বনানী এলাকা থেকে মিনহাজ মান্নান ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। বিএলআই সিকিউরিটিজের কর্ণধার মিনহাজ মান্নান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একজন পরিচালক। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির খালাত ভাই। মিনহাজের ভাই জুলহাজ                মান্নানকে ২০১৬ সালে জঙ্গিরা হত্যা করেছিল। জুলহাজ মান্নান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের প্রটোকল কর্মকর্তা ছিলেন।

রাষ্ট্রচিন্তা নামে সংগঠনের সদস্য দিদারুল ভূঁইয়াকে বুধবার রাতে রমনা থানায় সোপর্দ করেছে র্যাব। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর বাড্ডার চ-৫৫/১ নম্বর বাড়ির ছয় তলার ফ্ল্যাট থেকে তাকে র্যাব পরিচয়ে উঠিয়ে নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। র্যাব-৩ অপারেশন অফিসার এএসপি জাফর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

মঙ্গলবার রাতে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন র্যাব-৩ এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক। মামলায় আরো পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতার মিনহাজ মান্নান ইমন, দিদারুল ইসলাম, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও শাহেদ আলম, সায়ের জুলকারনাইন, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন।