গাজীপুরে বেতনের এবং করোনা সুরক্ষাসামগ্রীর দাবিতে এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। রূপগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। ফেনীতে ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বকেয়া বেতনের দাবি ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের গুজবে গাজীপুরে দুটি কারখানায় বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার সেইলর মুন নামের কারখানায় বৃহস্পতিবার মার্চের বেতন দেওয়ার তারিখ ছিল। সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানায় বেতনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পারায় বিকালেও বেতন দিতে পারেনি। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কারখানার ভাঙচুর চালায়। পরে রবিবার বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে শ্রমিকরা চলে যায়।
এই কারখানার শ্রমিক সোহেল জানান, মার্চের বকেয়া বেতন দেওয়ার একাধিকবার আশ্বাস দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ করেনি। এভাবে এপ্রিল মাসও পার হয়ে গেছে। তারপরও মার্চের বেতন দেয়নি।
ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, গাজীপুর মহানগরীর সাইনবোর্ড এলাকায় বেন্ডো ফ্যাশন লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা করোনা সংক্রমণরোধে তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থাকরণ ও শতভাগ বেতনের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরু করে।
করোনা সংকটে লকডাউন চলাকালে যারা কাজে যোগ দিতে পারেনি তাদের জন্য ৬০ ভাগ বেতন ভাতা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু শ্রমিকরা তা না মেনে শতভাগ বেতন প্রদান ও করোনা সংক্রমণ থেকে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শনিবার থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবে বলেও জানান ঐ পুলিশ কর্মকর্তা।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ০৭ মে বৃহস্পতিবার ফের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপর এলাকার অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড কমপোজিট নামক গার্মেন্টসে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গার্মেন্টসের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় গার্মেন্টসের প্রোডাকসন ম্যানেজারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তারা গার্মেন্টের ভেতর থেকে চেয়ার, টেবিল ও উত্পাদিত কাপড় সড়কে এনে আগুন জ্বালিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে। এতে করে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকে। মহাসড়কের উভয়দিকে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের।
গার্মেন্টের শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মার্চ মাসের বেতন না দিয়ে মালিকপক্ষ গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়। এরপর এপ্রিল মাসও চলে যায়। সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মালিকপক্ষ গার্মেন্টসের কর্মরত প্রায় ২ হাজার শ্রমিকের গত দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেননি। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বেতনের ব্যাপারে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যায়। বর্তমানে সড়কের যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ব্যাপারে অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড কমপোজিট গার্মেন্টসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরশুরাম সংবাদদাতা জানান, ফেনীতে ক্ষুধার্ত শ্রমিকদের ত্রাণ প্রদান, লকডাউনে থাকা অবস্থায় বেতন প্রদান ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের সুরক্ষার দাবিতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান এর নিকট নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি প্রদান করলে তিনি তা গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিবেন বলে শ্রমিকদের আশ্বাস দেন। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে অর্থাভাবে অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইতিমধ্যে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌরসভার মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিকট ক্ষুধার্ত শ্রমিকদের তালিকা প্রদান করা হলেও এখনো শ্রমিকরা ত্রাণ পায়নি। করাতকল মালিক ও হোটেল মালিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শ্রমিকদের লকডাউনে বেতন প্রদান করছেন না।