বাজেটে করনীতি সংস্কার চায় মোবাইল ফোন অপারেটররা

আসন্ন বাজেটে করনীতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। তারা বলছে, করনীতি সংস্কার হলে মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) মোবাইল শিল্পের বর্তমান অবদান ৭ শতাংশ থেকে আগামীতে আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব থেকে বলা হয়েছে, আগামী বাজেটে কি ধরনের কর সংস্কার এলে তা মোবাইল খাত ও এই সেবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে এমন কিছু প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে উত্থাপন করেছে। মোবাইলের বৈশ্বিক সংস্থা জিএসএমএ বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে জিডিপিতে মোবাইল শিল্পের অবদান ৭ শতাংশ।

এমটব সভাপতি ও রবির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে পুরো দেশ এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে। মোবাইল শিল্প খাতও এর বাইরে নয়। এই পরিস্থিতিতে মোবাইল শিল্প সব ধরনের যোগাযোগ, ব্যবসা, বিনোদন ইত্যাদির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে। আমরা অন্যান্য সময়ের মতো এই কঠিন সময়েও যথাযথভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে যেহেতু এই খাতটি এরই মধ্যে করসহ নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছে। তাই এখনই সময় এসব দূর করে এই খাতকে উত্সাহিত করা।’

টার্নওভার ট্যাক্স বাতিল করার কথাও বলেছে এমটব। এতে বলা হয়, ন্যূনতম টার্নওভার করের বিধান আয়করের নীতি বিরুদ্ধ। মোবাইল অপারেটরগুলো লোকসান করলে বা মুনাফা উপার্জনের ২ শতাংশের  চেয়ে কম অর্জিত হলে আরো ২ শতাংশ হারে এই কর দিতে হয়। এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে ন্যূনতম টার্নওভার কর অপসারণ দরকার।

এমটব যে দাবিগুলো করেছে তার মধ্যে অন্যতম সিম ট্যাক্স বাতিল। বর্তমানে সিম প্রতি ২০০ টাকা হারে কর রয়েছে। দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট ট্যাক্স যৌক্তিককরণ। মোবাইল শিল্পের জন্য বর্তমান কর্পোরেট কর ৪৫ শতাংশ, যা ভারতে ২২, পাকিস্তান এবং নেপালে ৩০, শ্রীলঙ্কায় ২৮ এবং আফগানিস্তানে ২০ ভাগ। এমটব কর্পোরেট ট্যাক্সকে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো যৌক্তিক হারে ৩০ শতাংশ করার অনুরোধ করেছে।

এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বিগত সময়ে মোবাইল সেবাদাতাদের লাইসেন্স নানাভাবে বিভাজন করে তাদের ব্যবসা সংকুুচিত করে ফেলা হয়েছে। অপারেটরদের ব্যবসার সংকোচন সরকারের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সুযোগকেও সীমিত করেছে। অন্যদিকে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন অনুযায়ী উেস ভ্যাট ছাড়ের নীতি ফিরিয়ে আনা হলেও সরকারের আয় বাড়ানো সম্ভব।’