স্পোর্টস ডেস্ক
করোনা পরিস্থিতি একরকম বাধ্যতামূলক শীতনিদ্রায়ই পাঠিয়ে দিয়েছিল ইউরোপীয় লিগগুলোকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোতেই আড়মোড়া ভাঙছে ইউরোপীয় লিগগুলো। প্রথম শীর্ষ ইউরোপীয় লিগ হিসেবে আগামী ১৬ মে মাঠে ফিরছে বুন্দেসলিগা। আর লা লিগা ফেরা নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে স্প্যানিশ দল লেগানেসের কোচ হ্যাভিয়ের আগুইরে জানালেন, ইতিমধ্যেই ২০ জুনে ফেরার পরিকল্পনা ফেঁদে বসেছে লা লিগা!
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল জার্মান লিগকে ফেরার অনুমতি দেওয়াতেই মূলত সব শঙ্কার মেঘ সরে গিয়েছিল বুন্দেসলিগার ওপর থেকে। ছিল কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। গত বৃহস্পতিবার লিগের দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে আসে ঘোষণা। বুন্দেসলিগা কর্তৃপক্ষ জানায় আগামী ১৬ মে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও শালকে জিরো ফোরের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে ফিরছে জার্মান শীর্ষ পর্যায়ের লিগটি। আর দ্বিতীয় বিভাগের খেলাগুলো শুরু হবে আগামী ৩০ মে।
এদিকে প্রায় দুই মাস স্থগিত থাকার পর আবারও মাঠে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে লা লিগায়। গত বুধবার লা লিগা ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগের সব দল করোনা পরীক্ষা করিয়েছে। ঠিক হয়ে গেছে অনুশীলনে ফেরার দিনক্ষণও। তবে লিগ কবে মাঠে ফিরবে তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছুই জানায়নি লা লিগা কর্তৃপক্ষ। সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাসের হয়ে সে কাজটা করে দিলেন লেগানেস কোচ আগুইরে।
তিনি জানান, আগস্টের আগেই লিগ শেষ করার লক্ষ্য লিগ কর্তৃপক্ষের। সম্প্রতি মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আগুইরে বলেন, ‘লিগ শুরুর দিনক্ষণ আমরা এরই মধ্যে পেয়ে গেছি। আগামী ২০ জুন মাঠে ফিরে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে লা লিগা। মানে ২৬ জুলাইয়ের কিছু আগে-পরে শেষ হয়ে যাবে লিগ।’
দিন-তারিখ পাওয়ার পাশাপাশি আরো বিস্তারিত তথ্যও জানালেন ম্যাক্সিকান এই কোচ। বললেন, ‘শনি-রবি আর বুধ-বৃহস্পতিবার হবে ম্যাচ দিবসগুলো। সব মিলিয়ে ১১টি ম্যাচ দিবস থাকবে। এমনটাই জানিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ। লিগের এমন সিদ্ধান্তে আমি আনন্দিত। এই সিদ্ধান্ত অনুসারেই নিজেদের সূচি সাজিয়েছি আমরা। কাল (আজ শনিবার) থেকেই অনুশীলনে নামব আমরা। আমরা ভাগ্যবান যে, ভালোয় ভালোয় করোনা পরীক্ষায় পাশ করেছি।’
ঠাসবুনটের সূচির ধকল এড়াতে বদলি খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানোর ভাবনা আছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের। তবে এর আগে পেতে হবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের। এ নিয়ম বাস্তবায়ন হলে প্রতি ম্যাচে দুই জন করে বেশি খেলোয়াড় বদল করতে পারবেন কোচ।
এমন ভাবনার প্রশংসাই করলেন আগুইরে। তার কথা, ‘আমি মনে করি, এটা দারুণ এক সিদ্ধান্ত। প্রায় ৮০ দিন গৃহবন্দি খেলোয়াড়দের ওপর পুরো ৯০ মিনিট পারফর্ম করার আশা করা যায় না। এছাড়া ঠাসবুনটের সূচিতে খেলোয়াড়দের চোটমুক্ত রাখার ব্যাপারও তো আছে!’