লালমনিরহাটে তরমুজের বাম্পার ফলন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলা নদী বিস্তীর্ণ ধু ধু বালুচরে আধুনিক লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক তরমুজের চাষ হয়েছে। বালুচরে মিষ্টি রসালো ফল তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, জেলার তিস্তা নদীর বালুচরের বিভিন্ন এলাকায় ও আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে ধরলার চরে তরমুজের ব্যাপক চাষ হয়েছে। সীমান্তে নিজেদের উদ্যোগে ভারতীয় কৃষক ও বাংলাদেশি কৃষক যৌথভাবে তরমুজ চাষ করছে। কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ও দুই দেশের সীমান্তবাসীর মধ্যে সুসম্পর্কের কারণে এভাবে বেশ কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ হয়ে আসছে। যৌথ উদ্যোগের তরমুজ দুই দেশের কৃষক তাদের দেশের পৃথক পৃথক বাজারে বিক্রয় করছে। বিষয়টি বিজিবি ও বিএসএফের স্থানীয় ক্যাম্প কমান্ডাররা অবগত আছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর স্বল্পপরিসরে ধরলা ও তিস্তা নদীর বালুচরে মাত্র ২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এবারে উত্পাদন হয়েছে প্রায় ৭০০/৮০০ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি তরমুজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি।

স্থানীয় তরমুজচাষি আপেল মাহামুদ (২৮) জানান, তিস্তা ও ধরলা নদীর বালুচরের তরমুজ অন্যান্য জেলার তরমুজের চেয়ে ভেতরে রঙ একটু বেশি লাল টুকটুকে ও বেশি মিষ্টি। এই তরমুজগুলো মৌসুমের শুরুতে আসায় বাজারে চাহিদা থাকায় বেশি দামও ভালো পাওয়া যায়। আরেক তরমুজচাষি রমজান আলী (৪০) জানান, তরমুজ চাষে একটু বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সামীম আশরাফ জানান, জেলায় তরমুজ চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলায় কৃষি উত্পাদন বহুমুখীকরণের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। যার একটি উদাহরণ তিস্তা ও ধরলার ধু ধু বালুচরে তরমুজ চাষ।