মুনশি আলিম
কলেজ থেকে একটু সকাল সকালই বাসায় ফিরলাম। কিন্তু একি কাণ্ড! বাসার সম্মুখভাগ অপ্রত্যাশিত লোকে লোকারণ্য। অনেকটা ডিমের মতো গোলাকৃতি হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রথমটায় মনে হলো কেউ হয়তো মারা গিয়েছে। কাছে যেতেই সে ভুল ভেঙে গেল। জ্যোতিষী! সাপুড়ে জ্যোতিষী! সাপ দিয়ে ভাগ্যখেলা দেখার জন্য আশেপাশের প্রতিবেশী থেকে শুরু করে অনেক পথিকই জড়ো হয়েছে। সাপটি যার হাতে যায় তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন আর যার হাতে যায় না, তার ঘোর বিপদ! লোকটি একটু পরপরই বলছে—বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর!
আমি ভালো করে খেয়াল করার চেষ্টা করি। যাদের হাতে সাপ যেতে অনীহা প্রকাশ করে তারা বেশ বেদনা ভারাক্রান্ত। সমস্যার সমাধানস্বরূপ চলে গাছের শেকড়বাকড়ের রমরমা ব্যবসা, তাবিজের বুনিয়াদি ব্যবসা।
বাজারের ক্যাম্পাসারের মতো জ্যোতিষী বেশ জমিয়ে ফেলেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তার পকেট ভরা নদীর মতোই ফুলেফেঁপে উঠেছে। আমি মামার কাছে গিয়ে জ্যোতিষীর কৌশলের কথা বুঝিয়ে বললাম। মামা তো মূল ঘটনা শুনে সেইরকম খুশি!
তিনি বিদ্যুদ্বেগে বাসার ভেতর থেকে একটি লাঠি নিয়ে এলেন। আমাকে বললেন, এবার তুই হাত দেখা। আমি হাত দিতেই সাপটি পিছনে ফিরে গেল। আমি জ্যোতিষীর দিকে তাকাই। জ্যোতিষী বলল, আপনার ঘোর বিপদ! আমি বললাম, এ বিপদ আপনার সৃষ্টি! লোকটি ভেতরে ভেতরে মুষড়ে পড়ল। ঐ যে, কানার মনে মনে জানা তেমনই আর কি! তবু না বোঝার ভান করে বলল, মানে? আমি বললাম, আপনি যদি সাপের লেজে সবার অজান্তে চিমটি না কাটতেন তবে সাপটি নিশ্চয়ই আসত। সাপের লেজে এখনো আপনার চিমটির দাগ আছে।
আমার কথা শেষ হতেই উপস্থিত দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ল সাপের লেজ দেখার জন্য। কেউ কেউ তো ভণ্ড গণক, ভণ্ড জ্যোতিষী বলে গালিও শুরু করে দিয়েছে। কেউ কেউ আবার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে এগিয়ে আসছে। পাবলিক সেন্টিমেন্ট অনেকটা আকাশের মতো—এই মেঘ, এই বৃষ্টি!
সাপুড়ে আমতা আমতা করতে লাগল। মামা যেই লাঠি হাতে নিয়েছে, সাপুড়ের দৌড় আর দেখে কে! দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছেই।